ইউপি নির্বাচনে মোট ৪২ প্রতীক চূড়ান্ত করল ইসি

প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৬ অপরাহ্ণ
ইউপি নির্বাচনে মোট ৪২ প্রতীক চূড়ান্ত করল ইসি
নির্বাচন কমিশন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে প্রার্থীদের জন্য মোট ৪২টি প্রতীক চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী, এবারের ইউপি নির্বাচন দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। নতুন বিধিমালায় চেয়ারম্যান পদের জন্য ২০টি, সাধারণ সদস্য পদের জন্য ১২টি এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের জন্য ১০টি প্রতীক রাখা হয়েছে।

জামানত ও ব্যয়সীমা বৃদ্ধি: সংশোধিত নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য জামানতের পরিমাণে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

  • চেয়ারম্যান পদ: প্রার্থীদের জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া এই পদে সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয় ৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • সদস্য পদ: সাধারণ ও সংরক্ষিত উভয় সদস্য পদে জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। তবে সদস্য পদে নির্বাচনী ব্যয়সীমা পূর্বের মতোই ২ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে জামানত ফেরত পাওয়ার নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১৫ শতাংশ ভোট পেতে হবে। ইতিপূর্বে মোট প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ (১২.৫%) পেলেই জামানত ফেরত পাওয়ার বিধান ছিল।

পদভিত্তিক চূড়ান্ত প্রতীকসমূহ: ১. চেয়ারম্যান পদের ২০টি প্রতীক: কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিলঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবিট্যাক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস। ২. সংরক্ষিত সদস্য পদের ১০টি প্রতীক: আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার। ৩. সাধারণ সদস্য পদের ১২টি প্রতীক: উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চলাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ।

কমিশনের কড়া ক্ষমতা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা: সংশোধিত বিধিমালায় নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। কোনো ভোটকেন্দ্রে বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনো অপকর্মের কারণে নির্বাচন চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হলে কমিশন সেই নির্দিষ্ট কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করতে এবং প্রয়োজনে পুরো নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোট গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবে। এছাড়া আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও ইসির হাতে অর্পণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত গণমাধ্যমকর্মীদের কাজে বাধা প্রদানের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের দায়ে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের আইনি বিধান রাখা হয়েছে।

ইসির পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলায় ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাত ধাপে এই নির্বাচন সম্পন্ন করবে কমিশন।

মন্তব্য করুন