জাতিসংঘে বাংলায় ঐতিহাসিক ভাষণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের: সৃষ্টি হলো বিরল ইতিহাস

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘে বাংলায় ঐতিহাসিক ভাষণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের: সৃষ্টি হলো বিরল ইতিহাস
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাবা ও মায়ের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পদাঙ্ক অনুসরণ করে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রথমবারের মতো বাংলায় এই ঐতিহাসিক ভাষণ দেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে একই পরিবারের বাবা, মা ও ছেলে—তিন সদস্যের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার এক বিরল রাজনৈতিক ইতিহাস রচিত হলো।

নিউইয়র্ক সময় বিকেলে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের প্রধান সম্মেলন কক্ষে সাধারণ পরিষদ হলে সম্পূর্ণ বাংলায় দেওয়া এই প্রথম ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং বিশ্বশান্তির বার্তা অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

‘এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে আজ আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর’ ভাষণের শুরুতেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে সম্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে এই মুহূর্তে আজ আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর। এই বিশ্বমঞ্চেই দাঁড়িয়েই আমার পিতা—বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আমার মা—সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া দেশ এবং জনগণের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন। একইভাবে আজ আমিও আমার দেশ এবং জনগণের স্বার্থের পক্ষে এবং একটি শান্তিময় বিশ্ব সমাজের প্রত্যাশায় এখানে দাঁড়িয়েছি।”

প্রধানমন্ত্রীর এই সাবলীল ও সময়োপযোগী ভাষণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকারসমূহ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উঠে আসে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জন, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং মানবিক নানা ইস্যুর পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য বিশ্ববাসীর কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

চার দশকের বেশি সময়ের ধারাবাহিকতায় নতুন অধ্যায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ঐতিহাসিক ভাষণ তাঁর পরিবারের সঙ্গে জাতিসংঘের এই বৈশ্বিক সংস্থার চার দশকেরও বেশি সময়ের ঐতিহাসিক সম্পৃক্ততার সঙ্গে একটি নতুন মাত্রা যোগ করল।

এর আগে তাঁর বাবা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন। ওই দূরদর্শী ভাষণে তিনি ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার ক্রমবর্ধমান ব্যবধান হ্রাস, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য বিমোচন এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন।

এর তেরো বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন বেগম খালেদা জিয়া। জাতিসংঘের দাপ্তরিক নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে তিনি মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিয়ে ভাষণ দিয়েছিলেন। এ ছাড়াও তিনি ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সভা, ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশন চলাকালীন দুটি পৃথক উচ্চপর্যায়ের সভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছিলেন।

পরিবারের সেই গৌরবময় ধারায় এবার যুক্ত হলো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম। একই পরিবারের তিন সদস্যের বিশ্বমঞ্চে এই ধারাবাহিক নেতৃত্ব শুধু বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে নয়, বরং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের দীর্ঘ ইতিহাসেও এক বিরল ও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

মন্তব্য করুন