নুর আলম সিদ্দিকী >>>
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে।
সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে ইতোমধ্যে ৭টি জাহাজের তেল আমদানির জন্য এলসি সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান গত মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিপিসি ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, দেশে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল প্রায় ১৪ দিন, অকটেন ২৮ দিন, পেট্রল ১৫ দিন, ফার্নেস অয়েল ৯৩ দিন এবং জেট ফুয়েল ৫৫ দিনের মজুত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে তেলের বিকল্প আমদানি বাজার খোঁজার বিষয়েও চিন্তাভাবনা করছে সরকার। তবে বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে, তাতে তাৎক্ষণিকভাবে জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই।
সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে পরিশোধিত জ্বালানির তাৎক্ষণিক কোনো সংকট না থাকলেও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতে ব্যাঘাত ঘটলে ভবিষ্যতে চাপ তৈরি হতে পারে।
বিপিসির মজুতের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমান ব্যবহার হারে জ্বালানি তেলের মজুত ১৪ থেকে ২১ দিনের মধ্যে শেষ হতে পারে। তবে ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে আরও দুটি জাহাজে জ্বালানি তেল এসেছে, যার মধ্যে একটি জাহাজ থেকে তেল খালাসের কাজ শুরু হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও ঘনীভূত হলে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এন.এ/সকালবেলা