‘শাপলা হত্যা মামলায় অ্যামনেস্টির হস্তক্ষেপ উচিত নয়’

প্রকাশ: রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০৭:৩৮ অপরাহ্ণ
‘শাপলা হত্যা মামলায় অ্যামনেস্টির হস্তক্ষেপ উচিত নয়’

বিশেষ প্রতিবেদন: ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার হওয়া দুই সাংবাদিকের (মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রূপা) আইনি প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

আজ রবিবার (২৪ মে) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে তাঁর নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “শাপলা চত্বরের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওই দুই সাংবাদিককে ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনালের মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট (গ্রেফতার) দেখানো হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এই মামলার গভীর তদন্ত চালাচ্ছে, তাই তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া উচিত।”

তিনি আরও যোগ করেন, “অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এই গ্রেফতারে কী প্রতিক্রিয়া জানাল, তা আমাদের দেখার বিষয় নয়। বাংলাদেশের একটি চলমান স্বাধীন বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো বিদেশি সংস্থার হস্তক্ষেপ করা মোটেও উচিত হবে না এবং এর কোনো আইনগত সুযোগও নেই।”

এই মামলায় ভবিষ্যতে আরও কোনো সাংবাদিককে গ্রেফতার দেখানো হবে কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করে বলেন, “আমাদের তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। তদন্তে যাদেরই অপরাধের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, কেবল তাদেরই আইনের আওতায় আনা হবে। তবে আমি নিশ্চিত করছি, অহেতুক কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি করার জন্য ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি করা হবে না।” অন্যদিকে, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে পৃথক কোনো তদন্ত চলছে কিনা—জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে এ বিষয়ে তাঁর কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো ধারণা নেই।

সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্তত ৩১টি মামলার তদন্ত কাজ এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘ বছর পার হলেও বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়াকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। আমিনুল ইসলাম আরও জানান, তিনি ট্রাইব্যুনালে যোগ দেওয়ার পর পুরনো ৭টি মামলা পুনরায় অধিকতর তদন্তে পাঠিয়েছেন, যেগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষে আগামী ঈদুল আজহার পর পরই আদালতে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট দাখিল করা হবে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন