সৌদির পুরো আকাশসীমা অনিরাপদ ঘোষণা হুতিদের

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ণ
সৌদির পুরো আকাশসীমা অনিরাপদ ঘোষণা হুতিদের

অনলাইন ডেস্ক: ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র দুই নগরী মক্কা ও মদিনা ব্যতিরেকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের সম্পূর্ণ আকাশসীমাকে চরম ‘অনিরাপদ’ ঘোষণা করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি। একই সাথে দেশটির সমস্ত জ্বালানি ও তেল খাতের স্থাপনা থেকে কর্মী এবং সাধারণ নাগরিকদের অনতিবিলম্বে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছে গোষ্ঠীটি।

আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) হুতিদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালিত সংবাদ সংস্থা সাবার এক বিশেষ প্রতিবেদনে তাদের সামরিক সূত্রের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর ও সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

হুতি সামরিক সূত্রের স্পষ্ট বার্তা উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “পবিত্র মক্কা ও মদিনা শরিফ ছাড়া সৌদি আরবের সার্বিক আকাশসীমা আমাদের দৃষ্টিতে পুরোপুরি অনিরাপদ। এই সরাসরি সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে কেউ যদি কোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়, তবে পরবর্তীতে তাদের কোনো ধরনের অজুহাত বা দায়ভার গ্রহণ করা হবে না।”

সামরিক সূত্রটি একই সাথে সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ও রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি 'আরামকো'র বিশ্বজুড়ে থাকা শেয়ারহোল্ডার ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রতি চরম হুঁশিয়ারি জারি করেছে। তারা সতর্ক করে বলে, “অদূর ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বড় ধরনের অবকাঠামোগত ও আর্থিক ক্ষতি এড়াতে, আমরা আরামকোর সমস্ত শেয়ারহোল্ডারদের পরামর্শ দিচ্ছি যেন খুব দেরি হওয়ার আগেই তারা নিজেদের শেয়ার ও বিনিয়োগ তুলে নেন।” তবে ঠিক কী ধরনের বিধ্বংসী সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো সুনির্দিষ্ট বার্তা দেয়নি বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।

হুতিদের এই চরম হুঁশিয়ারি আসার আগে সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী নাজরান শহরের একটি জনবহুল আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো প্রক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছে। ওই হামলায় অন্তত ছয়জন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সৌদির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা হুতিদের ছোঁড়া দুটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মধ্যআকাশেই সফলভাবে প্রতিহত ও পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি মূলত সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়েছিল।

চলতি অক্টোবর মাসের শুরু থেকেই সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা উত্তেজনা ও সামরিক সংঘর্ষ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। হুতিদের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে বড় ধরনের যৌথ বিমান অভিযানের ঘোষণা দিয়ে আসছে জোটটি, যার বিপরীতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে হুতিরা।