৩৮ বছর পর টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক জয়

প্রকাশ: বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২১ অপরাহ্ণ
৩৮ বছর পর টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক জয়

অনলাইন ডেস্কP:যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে বহু বছরের সমীকরণ বদলে দিয়ে এক ঐতিহাসিক সিনেট নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করেছেন ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী জেমস টালারিকো। দীর্ঘ ৩৮ বছর পর রিপাবলিকানদের শক্ত অবস্থান চুরমার করে দিয়ে এই অঙ্গরাজ্য থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলেন।

আজ বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর টেক্সাসের রাজধানী অস্টিনে জেমস টালারিকোর সমর্থকেরা আনন্দে মেতে ওঠেন। সাবেক এই স্কুলশিক্ষক পেশাগত জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিক প্রচারণায় মূলত সাধারণ টেক্সানদের জীবনযাত্রার আকাশছোঁয়া ব্যয় বৃদ্ধি এবং মৌলিক অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিকে প্রধান হাতিয়ার করেছিলেন।

নির্বাচনী ফলাফল দেখার অনুষ্ঠানে বিপুল করতালির মধ্যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে টালারিকো অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, "আমরা টেক্সাসকে আবার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে এনেছি। আজকের এই জয় প্রমাণ করেছে যে, পৃথিবীর সব অর্থসম্পদ ও প্রভাবও সাধারণ মানুষের একতাবদ্ধ শক্তির কাছে হেরে যেতে বাধ্য।" বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বাইবেলের ‘ডেভিড ও গোলিয়াথ’-এর অসম কিন্তু সফল লড়াইয়ের গল্পের উদাহরণ টেনে নিজের দুর্গম নির্বাচনী লড়াইয়ের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন।

টেক্সাসের এই আসনটির লড়াই নির্বাচনী ব্যয়ের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। দুই প্রার্থীর প্রচারণায় সব মিলিয়ে মোট খরচের পরিমাণ ৫০০ কোটি (৫ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে যায়। রিপাবলিকান প্রার্থী ক্যান প্যাক্সটনের প্রচারণাকে জোরালো করতে বিশ্বসেরা ধনকুবের ইলন মাস্কের একটি সুপার প্যাক (Super PAC) থেকে একাই প্রায় ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার অর্থায়ন করা হয়েছিল। টালারিকো তাঁর প্রচারণায় ধনকুবেরদের এই বিশাল অর্থের প্রভাবকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ করেন।

তাছাড়া, টেক্সাসের রাজনীতির প্রভাবশালী ও ঐতিহ্যবাহী বুশ পরিবারের দুজন সদস্য প্রকাশ্যে টালারিকোকে সমর্থন জানালে রিপাবলিকান প্রার্থী প্যাক্সটনের শিবিরে বড় ধরনের ধস নামে। কয়েক দশক ধরে টেক্সাসের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাটদের অঙ্গরাজ্যব্যাপী জয় যেখানে একটি অসম্ভব স্বপ্ন মনে করা হতো, সেখানে জেমস টালারিকোর এই জয় গোটা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরণের পরিবর্তন এনে দিয়েছে।

সকালবেলা / নুসরাত