চিত্রনায়িকা শাবানার জন্মদিন আজ

প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ণ
চিত্রনায়িকা শাবানার জন্মদিন আজ

বিনোদন প্রতিবেদক:বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের এমন এক মহীরুহ, যার নামের পাশে নতুন কোনো বিশেষণের প্রয়োজন পড়ে না—তিনি আর কেউ নন, আমাদের সবার প্রিয় বরেণ্য অভিনেত্রী শাবানা। বাংলা সিনেমাপ্রেমীদের কাছে ‘শাবানা’ একটি নাম নয়, বরং একটি আবেগের নাম, এক বুক গর্বের ইতিহাস। প্রায় ২৬ বছর ধরে রুপালি পর্দার আলো-ঝলমলে দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকলেও কোটি বাঙালির হৃদয়ে তাঁর তারকাখ্যাতি এবং রাজকীয় কন্ডিশন আজও বিন্দুমাত্র ম্লান হয়নি। আজ ১৫ জুন, ঢালিউডের এই চিরসবুজ নায়িকার শুভ জন্মদিন।

আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘সেলিব্রিটি লাইফস্টাইল, পপ কালচার ও বিনোদন খতিয়ান’ এবং ‘শোবিজ গসিপ, সেলিব্রিটি লাইফ ট্র্যাকিং ও কালচারাল ইভেন্ট মনিটরিং উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে এই বরেণ্য অভিনেত্রীর গৌরবময় জীবনের চেনা রূপকথা ও ঐতিহাসিক সমীকরণ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

চলচ্চিত্রের অফিশিয়াল আর্কাইভ খতিয়ান অনুযায়ী, ১৯৫২ সালের ১৫ জুন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই গুণী শিল্পী। তাঁর প্রকৃত বা পারিবারিক নাম আফরোজা সুলতানা রত্না। শৈশবেই পরিচালক এহতেশামের হাত ধরে ‘নতুন সুর’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে তাঁর রূপালি জগতে পা রাখার মেথডলজি তৈরি হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালে উর্দু ভাষার ‘চকোরী’ চলচ্চিত্রে কেন্দ্রীয় ডমিনেন্ট চরিত্রে প্রথম নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেই রাজকীয় এন্ট্রি নেন তিনি। এই ছবিতেই রত্না থেকে তাঁর নতুন নাম রাখা হয় ‘শাবানা’।

ঢালিউডের কাস্টিং ও স্ক্রিন শেয়ারিং মেথড অনুযায়ী, শাবানা তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে রাজ্জাক, জসিম, ওয়াসিম, উজ্জ্বলের মতো মেগা সুপারস্টারদের সাথে অসংখ্য বাণিজ্যিক সফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন। তবে ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে চিত্রনায়ক আলমগীরের সাথেই তাঁর পর্দার রসায়ন ছিল সবচেয়ে দীর্ঘ ও সফল। জুটি হিসেবে তাঁরা রেকর্ডসংখ্যক ১৩০টি চলচ্চিত্রে একসাথে অভিনয় করে ইতিহাস গড়েছেন। এছাড়া পাকিস্তানের জনপ্রিয় নায়ক নাদিমের বিপরীতেও তাঁর অভিনয় সমাদৃত হয়েছিল।

বক্স অফিস ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ট্র্যাকিং উইং অনুযায়ী, শাবানার ঝুলিতে রয়েছে বহু কালজয়ী সিনেমা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—স্বাধীনতার পটভূমিতে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’, আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত ‘ভাত দে’, ‘অবুঝ মন’, ‘মধু মিলন’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘সখী তুমি কার’, ‘মা ও ছেলে’, ‘চাঁপা ডাঙ্গার বউ’, ‘ঘরের বউ’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘নালিশ’, ‘রজনীগন্ধা’ এবং ‘স্বামী স্ত্রী’ ইত্যাদি। পারিবারিক ও সামাজিক মেলোড্রামায় তাঁর কান্না এবং আবেগের সাবলীল মেথড দর্শকদের হলমুখী করতে বাধ্য করত।

পারিবারিক সম্পর্কের অফিশিয়াল খতিয়ানে জানা যায়, ১৯৭৩ সালে চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক ওয়াহিদ সাদিকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শাবানা। তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্রসন্তানের স্নেহময়ী জননী। ২০০০ সালে যখন শাবানা তাঁর ক্যারিয়ারের জনপ্রিয়তার সর্বোচ্চ কন্ডিশনে অবস্থান করছিলেন, তখনই সবাইকে অবাক করে দিয়ে হুট করেই অভিনয়কে বিদায় জানানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। সপরিবারে পাড়ি জমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।

শাবানা যখন সিনেমা জগৎ ছেড়ে যান, তখন আজকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ফেসবুকের কোনো মেথডলজি ছিল না। কিন্তু তাঁর চলে যাওয়ার দীর্ঘ দুই দশক পরও ডিজিটাল দুনিয়ায় তাঁর ক্রেজ একটুও কমেনি। আজ ১৫ জুন তাঁর জন্মদিনে ফেসবুকের ওয়ালে ওয়ালে পরিচিত-অপরিচিত হাজারো ভক্ত, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সহশিল্পীরা তাঁর পুরোনো দিনের স্থিরচিত্র ও সিনেমার পোস্টার শেয়ার করে নস্টালজিক হয়ে উঠছেন। জীবনের শুরুর দিকে তিনি আমেরিকার নিউইয়র্কে থাকলেও বর্তমানে স্বামী ওয়াহিদ সাদিক, সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে নিউ জার্সিতে এক শান্ত ও নিভৃত পারিবারিক কন্ডিশনে দিন কাটাচ্ছেন এই গুণী অভিনয়শিল্পী।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন