পরিবার বাঁচাতে অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করেন কোরীয় অভিনেত্রী কিম সে-ইন
অনলাইন ডেস্ক: একসময় দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদনজগতে পরিচিত মুখ হলেও দীর্ঘ দিন ধরে পর্দার আড়ালে ছিলেন অভিনেত্রী কিম সে-ইন। অবশেষে দীর্ঘ বিরতি ভেঙে ক্যামেরার সামনে এসে নিজের জীবনের চরম অন্ধকার ও নির্মম সংগ্রামের গল্প প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি। সম্প্রতি এমবিএনের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘স্পেশাল ওয়ার্ল্ড’-এ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি জানান, চরম পারিবারিক ও আর্থিক সংকট মেটাতে বাধ্য হয়েই একসময় পর্দায় নগ্ন ও অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে হয়েছিল তাঁকে।
অনুষ্ঠানে আবেগঘন কণ্ঠে কিম সে-ইন বলেন, “আমাদের একসময়ের ব্যবসায়ী পরিবারের আর্থিক অবস্থা হঠাৎ করেই ধ্বংসের মুখে পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছিল যে পুরো পরিবারকে গুদামঘরে দিন কাটাতে হয়েছে। ঠিক ওই সময়েই আমার মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার খরচ ও পরিবারের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কোটি ওন (কোরীয় মুদ্রা) প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। সেই মুহূর্তে পরিবারের সব দায়ভার আমাকেই তুলে নিতে হয়।”
ক্যারিয়ারের শুরুর দিককার মানসিক নির্যাতনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “এজেন্সির প্রধান আমাকে বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে নিয়ে যেতেন এবং মানসিকভাবে অত্যাচার করতেন। জীবিকার প্রয়োজনে যখন আমি পর্দায় নগ্ন দৃশ্যে কাজ করি, তখন আমার বাবা ভীষণ ক্ষুব্ধ ও কষ্ট পেয়েছিলেন। কিন্তু আমার সামনে কোনো উপায় ছিল না। সেই সময় বেঁচে থাকতেও নিজের প্রতি ঘৃণা তৈরি হয়েছিল, প্রতিটি দিন যেন নরকের মতো মনে হতো।”
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে ‘সেম বেড, ডিফারেন্ট ড্রিমস’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয় জগতে আত্মপ্রকাশ করেন কিম সে-ইন। পরবর্তীতে ২০১১ সালে এসবিএসের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ওহ মাই গড’-এ অভিনয় করে দর্শকদের নজর কাড়েন। তবে পারিবারিক বিপর্যয় ও মানসিক চাপের মুখে ২০১৩ সালে হঠাৎ করেই অভিনয়নজগৎ থেকে পুরোপুরি নিজেকে গুটিয়ে নেন তিনি।
বর্তমানে রূপালী পর্দার রোশনাই ছেড়ে একেবারে সাধারণ জীবন যাপন করছেন কিম সে-ইন। সংসারের খরচ চালাতে বর্তমানে তিনি খাবার সরবরাহের (ফুড ডেলিভারি) খণ্ডকালীন কাজ করছেন। একই সঙ্গে সাতটি পরিত্যক্ত কুকুর, খরগোশ ও মুরগিসহ মোট ১৫টি প্রাণীর যত্ন নিচ্ছেন। ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে আশাবাদী এই অভিনেত্রী জানান, অতীত কাটিয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি এখন নিজের বাকি জীবনটুকু ভালোভাবে বাঁচতে চান।
|