মায়ের জুতোপেটা খেয়ে বড় হয়েছেন : ববি দেওল

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
মায়ের জুতোপেটা খেয়ে  বড় হয়েছেন : ববি দেওল

বিনোদন ডেস্ক : বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী দেওল পরিবারের সদস্যরা সবসময়ই লাইমলাইটে থাকলেও, সারাজীবন ক্যামেরার ঝলকানি ও প্রচারের আলো থেকে সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে রেখেছেন নিজেকে। তিনি হলেন বলিউড কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রের প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর। বলিউড সুপাস্টার সানি দেওল এবং ববি দেওলের গর্ভধারিণী মা হওয়া সত্ত্বেও বি-টাউনের কোনো পার্টি বা ক্যামেরার সামনে তাঁকে খুব একটা দেখা যায় না। তবে সম্প্রতি এক বিশেষ ও খোলামেলা সাক্ষাৎকারে নিজের অন্তরালচারী মাকে নিয়ে বেশ কিছু চমকপ্রদ ও বিস্ফোরক তথ্য শেয়ার করেছেন মেজো ছেলে ববি দেওল। তিনি জানান, রুপালি পর্দার তারকা সন্তান হলেও শৈশবে মায়ের চরম কড়া শাসনেই বড় হতে হয়েছে তাঁদের এবং পড়াশোনায় ফাঁকি দেওয়ার কারণে কথায় কথায় মায়ের হাতের জুতোপেটা ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী।

গত বুধবার (৩ জুন) রাত ৭টা ৫২ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বিনোদন’ ও ‘বলিউড গসিপ’ বিভাগের বিশেষ আয়োজনে ববি দেওলের সেই শৈশবের স্মৃতিচারণমূলক সাক্ষাৎকারটি বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

পাঞ্জাবের এক সাধারণ পরিবারের মেয়ে প্রকাশ কৌর ১৯৫৪ সালে তৎকালীন তরুণ ধর্মেন্দ্রের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর ধর্মেন্দ্র বলিউডের মহাতারকা হয়ে উঠলে প্রকাশ কৌর মুম্বাইয়ে এসে স্থায়ীভাবে সংসার পাতেন এবং চার সন্তানকে কঠোর নিয়মের মধ্যে লালন-পালন করেন।

শৈশবের দিনগুলোর স্মৃতি হাতড়ে ববি দেওল হাসিমুখে জানান, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তাঁর বিন্দুমাত্র মন ছিল না। প্রতিদিন সকালে স্কুলে যাওয়ার নাম শুনলেই তিনি জোরে জোরে কান্না জুড়ে দিতেন। শুধু তাই নয়, স্কুলের কোনো নিয়মানুবর্তিতা বা ডিসিপ্লিন না মানার কারণে প্রায় প্রতিদিনই স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁর মায়ের কাছে ডায়েরিতে নালিশ পাঠাতো।

একদিন এক অদ্ভুত ঘটনার কথা উল্লেখ করে ববি বলেন, “আমি মুম্বাইয়ের একটি নামী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়তাম। কিন্তু ইংরেজি বাদ দিয়ে সারাক্ষণ অনর্গল হিন্দিতেই কথা বলতাম। এটা দেখে একদিন আমার স্কুলের শিক্ষক রেগে গিয়ে আমার মাকে পরামর্শ দেন—ইংরেজি মিডিয়াম বাদ দিয়ে আমাকে যেন কোনো হিন্দি মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয়। শিক্ষকের মুখে এই কথা শোনা মাত্রই আমার মা প্রচণ্ড রেগে যান।”

সেই মুহূর্তের কথা মনে করে ববি দেওল আরও বলেন, “স্কুল থেকে আমার নামে এত এত অভিযোগ আসতো যে, স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পুরোটা হাঁটাপথ মা আমাকে মারতে মারতে নিয়ে যেতেন। আর যেদিন শিক্ষক আমার স্কুল ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বললেন, সেদিন বাড়িতে এসে মা রাগের মাথায় আমাকে জুতোপেটা করতে শুরু করেছিলেন। মায়ের সেই জুতোপেটা ছিল আমাদের সোজা করার জন্য মায়ের হাতের সবচেয়ে বড় ঘরোয়া অস্ত্র।”

মায়ের কাছে নিয়মিত মার খেলেও বাবা ধর্মেন্দ্রের শাসন পদ্ধতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ববি জানান, তাঁর মেগাস্টার বাবা ধর্মেন্দ্র কাজের ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানদের খেয়াল রাখতেন, তবে তিনি কখনও সন্তানদের গায়ে হাত তোলেননি। ববির ভাষায়, “বাবা আমাদের কখনও মারেননি। তবে তিনি যখন কোনো কারণে রেগে গিয়ে নিজের চোখ দুটো বড় বড় করে আমাদের দিকে তাকাতেন, আমরা তাতেই প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যেতাম। বাবার সেই একটি চাহনিই আমাদের সোজা করার জন্য যথেষ্ট ছিল।”

বলিউডের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ধর্মেন্দ্র এবং প্রকাশ কৌরের দীর্ঘ বৈবাহিক সংসারে সানি দেওল, ববি দেওল, বিজেতা দেওল এবং অজিতা দেওল নামে চার সন্তান জন্ম নেয়। পরবর্তীতে এই বলিউড তারকা নিজের প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরকে আইনিভাবে ডিভোর্স বা বিবাহবিচ্ছেদ না দিয়েই, বিগত ১৯৮০ সালে বলিউডের ‘ড্রিম গার্ল’ খ্যাত অভিনেত্রী হেমা মালিনীকে দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ে করেন। তবে বাবার দ্বিতীয় বিয়ের পরও মায়ের প্রতি সন্তানদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা যে একটুও কমেনি, ববি দেওলের এই সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারই তার বড় প্রমাণ।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন