হজযাত্রী নিবন্ধন শেষ করতে হবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে
নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ২০২৭ সালের (হিজরি ১৪৪৮) পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিক গাইডলাইন ও সময়াবদ্ধ রোডম্যাপ (Roadmap) প্রকাশ করেছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ঘোষিত এই নতুন রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী বছরের হজে গমনেচ্ছুকদের চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজের প্রাথমিক ও চূড়ান্ত নিবন্ধন প্রক্রিয়া আবশ্যিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে। গতকাল রবিবার (৭ জুন) মন্ত্রণালয়ের হজ-১ শাখা থেকে এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নতুন নির্দেশনা ও সময়সূচি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়।
আজ সোমবার (৮ জুন) দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘ইসলাম ও সমকালীন সমাজ, ধর্মীয় বিধান ও হজ ব্যবস্থাপনা’ এবং ‘ধর্ম মন্ত্রণালয় সরকারি নোটিশ, সৌদি হজ ও উমরাহ ট্র্যাকিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে ২০২৭ সালের হজের রোডম্যাপের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও নির্দেশনাগুলো বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ২৯ মে সৌদি আরবের জেদ্দায় এক অনাড়ম্বর ও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় ২০২৭ সালের হজের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ঘোষণা করে। পরবর্তীতে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রীদের কাছে এই রোডম্যাপ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশের সম্মানিত ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ওই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ তাঁর কাছে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত হজের এই আন্তর্জাতিক রোডম্যাপটি হস্তান্তর করেন।
বাংলাদেশ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত রোডম্যাপ অনুসারে, প্রধান প্রধান কার্যক্রমের সময়সীমা নিচে উল্লেখ করা হলো:
চলতি বছরের (২০২৬) ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শেষ করতে হবে। ২০২৬ সালের ৮ নভেম্বর সৌদি আরব ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক হজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হজযাত্রীদের ভিসা ইস্যু করা শুরু হবে। ২০২৭ সালের ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে হজের প্রথম ফ্লাইট যাত্রা করবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০২৭ সালের ১৫ মে (০৯ জিলহজ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে।
ডিজিটাল হজ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে সৌদি প্রান্তের যাবতীয় খরচের অর্থ সরাসরি 'নুসুক মাসার' (Nusuk Masar) প্ল্যাটফর্মের ই-ওয়ালেটে (E-Wallet) স্থানান্তর করতে হবে। এই লেনদেন কার্যক্রম চলতি বছরের ১৫ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু থাকবে। নুসুক মাসার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সামগ্রিক সেবা প্যাকেজ যেমন—মিনায় তাঁবু বুকিং, সার্ভিস প্যাকেজ, মক্কা ও মদিনার হোটেল নির্ধারণ, ক্যাটারিং ও পরিবহন সেবা নেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর শুরু হবে ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই এবং তা শেষ করতে হবে ২০২৭ সালের ২৩ জানুয়ারি।
এ ছাড়া, দেশের নিবন্ধিত হজযাত্রীদের সমস্ত ব্যক্তিগত ও বায়োমেট্রিক ডাটা নুসুক মাসার সিস্টেমে আপলোড করতে হবে ১৪ আগস্ট থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে। একই সাথে হজযাত্রী পরিবহনকারী নিবন্ধিত এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর ও নুসুক মাসারে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন সম্পন্ন করতে হবে চলতি বছরের ২৯ জুলাই থেকে ৮ নভেম্বরের মধ্যে। ঘোষিত এই আন্তর্জাতিক রোডম্যাপ ও সময়সীমা কঠোরভাবে মেনে যথাসময়ে হজের সমস্ত অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল এজেন্সি ও হজযাত্রীদের বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
জান্নাত সকালবেলা
|