সরকার ও জনগণের যৌথ প্রচেষ্টায় পরিবেশদূষণ দূর হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০২ অপরাহ্ণ
সরকার ও জনগণের যৌথ প্রচেষ্টায় পরিবেশদূষণ দূর হবে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক: সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা থাকলে দেশের যেকোনো অবহেলিত এলাকাকে সর্বসাধারণের কল্যাণে অত্যন্ত সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও শতভাগ পরিবেশবান্ধব হিসেবে নতুনভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার এলাকায় মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ঘটা অবিশ্বাস্য দৃশ্যমান পরিবর্তনই এর সবচেয়ে বড় উজ্জ্বল প্রমাণ।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে আমিনবাজার এলাকায় সড়কের পাশে পরিকল্পিত সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী অতীত ও বর্তমানের ব্যবধান তুলে ধরে বলেন, “প্রায় দুই মাস আগে আমিনবাজার এলাকার যে দুর্গন্ধময় ও করুণ অবস্থা ছিল, বর্তমানে সেখানে এক উল্লেখযোগ্য ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। এই সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে এলাকাটি যেমন দেখতে অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন হয়েছে, তেমনি প্রতিদিন চলাচলকারী মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য একটা সুন্দর ও নির্মল পরিবেশে বুকভরে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।”

আমিনবাজারের এই বর্জ্যস্তূপ অপসারণ ও দৃষ্টিনন্দন ‘রূপান্তর’ বাগান সফলভাবে বাস্তবে রূপ দেওয়ায় ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সাভার পৌরসভার সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

পরিবেশের সৌন্দর্য টেকসই করার ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “সরকারি উদ্যোগে একটি এলাকাকে সুন্দর করে গড়ে তোলা হলো। কিন্তু পরবর্তীতে এই রূপ ও পরিবেশের উন্নয়ন টিকিয়ে রাখার মূল দায়িত্ব স্থানীয় বাসিন্দাদেরই নিতে হবে। সাধারণ মানুষ প্রশাসনকে সহযোগিতা করলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশদূষণের মতো জটিল সমস্যাগুলো চিরতরে সমাধান করা সম্ভব হবে।”

একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা জেলা প্রশাসককে আমিনবাজারের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী অন্যান্য এলাকাগুলোতেও সবুজায়ন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করার তাগিদ দেন।

তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, “মহাসড়কের দুই পাশে যেসব মিল-কারখানা বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাদের মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে মহাসড়ক সংলগ্ন নির্দিষ্ট অংশের পরিচর্যা ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাদের ওপর বণ্টন করা যেতে পারে। পাশাপাশি যেসব জায়গায় এখনো আবর্জনা ফেলা হচ্ছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সেসব স্থান পরিষ্কার করে সৌন্দর্যবর্ধনের কার্যকর মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।”

অন্যান্য জেলা প্রশাসকদের অনুকরণীয় মডেল: বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ঢাকা জেলা প্রশাসক আমিনবাজারে এই উদ্ভাবনী কাজের মাধ্যমে দেশের বাকি সব জেলার জেলা প্রশাসকদের জন্য একটি উজ্জ্বল ও প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ থেকে শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা নিয়ে দেশের অন্যান্য ৬৩ জেলার প্রশাসকেরাও নিজ নিজ অধিক্ষেত্রের অবহেলিত ও অপরিচ্ছন্ন স্থানগুলোকে দ্রুত চিহ্নিত করে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।