বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কে শুধু পুরুষের শাস্তি কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৯ অপরাহ্ণ
বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কে শুধু পুরুষের শাস্তি কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ।

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেবল পুরুষের শাস্তির বিধান রাখা কেন আইনগতভাবে অবৈধ, অকার্যকর ও সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কারণ দর্শানোর রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে দুই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির পারস্পরিক সম্মতিমূলক সম্পর্ককে ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’র অজুহাত দেখিয়ে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধানটি কেন বাতিল করা হবে না—তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

বিচারপতি হাবিবুল গনির নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) শুনানি শেষে এই গুরুত্বপূর্ণ রুল জারি করেন। আদালতে আজ রিট আবেদনের পক্ষে আইনি যুক্তি ও শুনানি উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইশরাত হাসান।

আদালত সূত্রে জানা যায়, পূর্বে এই বিষয়ে দায়ের করা একটি মূল রিট আবেদনের ধারাবাহিকতায় আজ হাইকোর্ট সম্পূরক রুল জারি করেন। এর মাধ্যমে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর মাধ্যমে সম্প্রতি সংযোজিত এই বিশেষ আইনি বিধানটির সাংবিধানিক বৈষম্য ও বৈধতার প্রশ্নটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে পেশ করা রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের সম্মতিক্রমে গড়ে ওঠা ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে পরবর্তীতে 'বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি'র তকমা দিয়ে একপক্ষীয়ভাবে কেবল পুরুষকে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত করা এবং শাস্তি দেওয়া একটি স্পষ্ট লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য।

আইনজীবী ইশরাত হাসান যুক্তি দেন, আইনটির সংশোধিত ধারাটি অস্পষ্ট, পক্ষপাতমূলক এবং বাংলাদেশের সংবিধানে প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকার ও সমতার নীতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। এই আইনি অসঙ্গতি দূর করতেই বিধানটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন