ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ঘিরে ভারতের লোকসভায় বিজেপি ও কংগ্রেসের তীব্র বিতর্ক

প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:২১ অপরাহ্ণ
ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ঘিরে ভারতের লোকসভায় বিজেপি ও কংগ্রেসের তীব্র বিতর্ক
ভারতের সংসদে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সংবর্ধনা জানাচ্ছেন বিজেপি সংসদ সদস্যরা। (ছবি: সংগৃহীত)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সর্বভারতীয় নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার নানা কেলেঙ্কারির দায়ে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার পর সংসদ চত্বরে পৌঁছালে সদ্য পদত্যাগী মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ফুলেল সংবর্ধনা ও উল্লাসে বরণ করে নিয়েছে শাসকদল বিজেপি ও এনডিএ জোটের সংসদ সদস্যরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভায় ক্ষমতাসীন দল ও প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের মধ্যে চরম বাকযুদ্ধ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

আজ সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান লোকসভায় পৌঁছালে ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান জিন্দাবাদ’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে সংসদ ভবন এলাকা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়ি থেকে নেমে হাতজোড় করে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সংসদে প্রবেশ করার পরপরই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ঘিরে ধরে উৎসবে মাতেন বিজেপি ও এনডিএ জোটের সংসদ সদস্যরা। ওড়িশার এই প্রভাবশালী রাজনীতিকের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি জানিয়ে তাঁর মাথায় ঐতিহ্যবাহী টুপি পরিয়ে এবং শাল জড়িয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান তাঁরা।

শাসকদলের এমন উদযাপনমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিরোধী দল কংগ্রেসের রাজ্যসভার জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য রেণুকা চৌধুরী বলেন, "বিজেপির কাছে এটি নতুন কিছু নয়। ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গায় বিলকিস বানোকে গণধর্ষণ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত ১১ আসামিকে যখন আগাম মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, তখনও তারা মিষ্টি খাইয়ে সংবর্ধনা দিয়েছিল। অন্যায়ের আসামীদের এভাবে উদযাপিত করা ও পাশে দাঁড়ানোই বিজেপির পুরোনো অভ্যাস।"

উল্লেখ্য, নিট পরীক্ষার মারাত্মক প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষা কাঠামোর নানা গাফিলতির প্রতিবাদে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ভারতে শিক্ষার্থীদের রাজপথ কাঁপানো আন্দোলন চলছিল। 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP) নামের একটি তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সংগঠনের নেতৃত্বে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পরবর্তীতে পুরো ভারতে ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের এই তুমুল গণবিক্ষোভ ও ক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় পদত্যাগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "গত কয়েকদিনের অপ্রীতিকর ঘটনা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। দেশের তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীরাই ভারতের প্রকৃত শক্তি, তাদের কোনো বিভ্রান্তির চক্রে পড়তে দেওয়া যায় না।"

এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং সরকারের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা তাঁদের সব দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানিয়ে দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা তাঁদের জাতীয় আন্দোলন সাময়িকভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে।

মন্তব্য করুন