খামেনির মরদেহ কেন ইরাকে নেওয়া হলো?

প্রকাশ: বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:১০ অপরাহ্ণ
খামেনির মরদেহ কেন ইরাকে নেওয়া হলো?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় নিহত ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিন এখন প্রতিবেশী দেশ ইরাকে। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে খামেনির মরদেহবাহী বিশেষ বিমানটি ইরাকের পবিত্র নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে সেখানে এক অভূতপূর্ব আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে কফিনটি যৌথভাবে গ্রহণ করেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এবং ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান। আজ বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকেই নাজাফের রাস্তায় প্রয়াত এই শীর্ষ নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে লাখো শিয়া মুসলমানের ঢল নেমেছে।

খামেনির চূড়ান্ত দাফন ইরানে হওয়ার কথা থাকলেও, তাঁর কফিন বিশেষভাবে ইরাকে নিয়ে আসার পেছনে মূলত দুটি বড় আধ্যাত্মিক ও ভূ-রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

১. শিয়া সংস্কৃতির সর্বোচ্চ ধর্মীয় বিদায় ও পুণ্যভূমি

বিশ্বের শিয়া মুসলমানদের কাছে ইরাকের নাজাফ এবং কারবালা হলো সবচেয়ে পবিত্রতম তীর্থস্থান। নাজাফে ইসলামের চতুর্থ খলিফা ও শিয়া সম্প্রদায়ের প্রথম ইমাম হযরত আলী (রা.) এবং কারবালায় মহানবী (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রা.)-এর পবিত্র মাজার শরিফ অবস্থিত। একজন ঐতিহ্যবাহী শীর্ষ শিয়া মারজা বা ধর্মগুরু হিসেবে আয়াতুল্লাহ খামেনির মরদেহকে ইসলামের এই ঐতিহাসিক পুণ্যভূমিতে এনে মাজার জিয়ারত ও তাবাররুক করানোর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ধর্মীয় সম্মান প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা শিয়া আলেমদের মৃত্যুর পর একটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ প্রথা।

২. ইরান-ইরাক ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ ও রাজনৈতিক ঐক্য প্রদর্শন

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে চরম যুদ্ধাবস্থা এবং উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তার বিপরীতে ইরান ও ইরাক নিজেদের অভিন্ন ‘আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক বন্ধন’ বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করতে চায়। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে বার্তা দিতেই এই যৌথ রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রার আয়োজন। ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানি এই বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেছেন, “এই যৌথ আয়োজন দুই মহান শিয়া প্রধান জাতির গভীর ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ককে বিশ্ববাসীর সামনে প্রমাণ করে।”

ইতিমধ্যে কারবালার প্রধান প্রধান সড়কের দেয়ালে খামেনির ছবির নিচে বড় বড় ব্যানারে লেখা হয়েছে—‘যিনি আমেরিকাকে অপমান করেছেন।’

এদিকে এই বিশাল সমাগম ও লাখো মানুষের নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে ইরাকি প্রশাসন নাজাফজুড়ে এক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। নাজাফ ও কুফার শোকযাত্রার পুরো পথজুড়ে সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে শত শত স্বেচ্ছাসেবী স্টল থেকে খাবার ও পানীয় সরবরাহ করা হচ্ছে। নাজাফের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কফিনটি সড়ক ও বিমানযোগে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে কারবালা শহরে নেওয়া হবে। সেখানে ইমাম হুসাইনের (রা.) মাজারে আরেকটি ঐতিহাসিক শোকযাত্রা ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামী শুক্রবার (১০ জুলাই) খামেনির মরদেহটি ইরানের তাঁর নিজের পবিত্র শহর মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.) মাজারে দাফনের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হবে।

মন্তব্য করুন