ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা এখনই উঠছে না: পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ঐতিহাসিক ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’র পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন পর্যায়ের আলোচনায় প্রবেশ করলেও তেহরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এখনই প্রত্যাহার করা হচ্ছে না। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়াকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইসহাক দার বলেন, “ইরান তাদের পারমাণবিক মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই গ্রহণ করবে।” তিনি জানান, পরবর্তী ধাপের আলোচনা মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি এবং লেবানন ইস্যুকে কেন্দ্র করে এগোবে এবং এ লক্ষ্যে তিনটি পৃথক টেকনিক্যাল টিমও গঠন করা হয়েছে।
৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্য বাকি আলোচনা শেষ করার জন্য পক্ষগুলোকে ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ইসহাক দার জানান, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনের মাধ্যমে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গোপন কোনো সমঝোতার ধারণা নাকচ করে তিনি বলেন, “যা কিছুতে সম্মতি হয়েছে, সবই লিখিত ইসলামাবাদ চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এখানে পাকিস্তানের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ ছিল না।”
লেবাননে হামলা ও ৪৭ বছরে প্রথম সরাসরি আলোচনা সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দার জানান, লেবাননে ইসরাইলি হামলার কারণে এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াটি প্রায় ভেস্তে যেতে বসেছিল, তবে পাকিস্তানসহ অংশীদার দেশগুলোর মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ আবার আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে।
তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ইসরাইলের হামলার পর আঞ্চলিক শান্তির স্বার্থে পাকিস্তান এই উদ্যোগ নেয়। ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধিদলের মধ্যে ৬ দফায় মোট ২১ ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। গত ৪৭ বছরের মধ্যে এটিই ছিল দুই দেশের প্রথম কোনো সরাসরি আলোচনা।
এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ইরানের পক্ষে পার্লামেন্টের স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিনিধিত্ব করেন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ইসহাক দার নিজে, প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মধ্যস্থতাকারী ও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্ক মিলে ‘আর-৪ ফোরাম’ নামে প্রায় ৫০ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী একটি যৌথ আঞ্চলিক মঞ্চ গঠন করেছে বলেও তিনি জানান।
|