যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন? আলোচনায় শীর্ষ তিন নাম

প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ণ
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন? আলোচনায় শীর্ষ তিন নাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা, দলের অভ্যন্তরীণ প্রবল চাপ এবং দেশজুড়ে কমতে থাকা জনপ্রিয়তার মুখে অবশেষে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন কিয়ার স্টারমার। তাঁর এই বিদায়ের পর ডাউনিং স্ট্রিটের পরবর্তী বাসিন্দা হওয়ার রেসে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তাঁকেই ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রায় নিশ্চিত ধরে নেওয়া হচ্ছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় কর বৃদ্ধি ও ব্যয় সংকোচনের মতো অজনপ্রিয় নীতির কারণে স্টারমার সরকারের জনপ্রিয়তায় ধস নামে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিতর্কিত কূটনীতিক পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের পর দলের ভেতরেই স্টারমারের পদত্যাগের তীব্র দাবি ওঠে।

স্টারমারের পদত্যাগের ফলে এখন লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। প্রেডিকশন মার্কেট বা বেটিং বাজারগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্ডি বার্নহামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা এখন সর্বোচ্চ ৯৫ শতাংশ। গত ১৮ জুন মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে ডানপন্থী দল ‘রিফর্ম ইউকে’কে হারিয়ে ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন বার্নহাম, যা তাঁর জন্য দলের নেতৃত্ব দেওয়ার পথ সহজ করে দেয়।

যুক্তরাজ্যের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের এই লড়াইয়ে বার্নহামের পাশাপাশি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বা সাবেক সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নসের মতো নেতারাও মাঠে নামতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্ট্রিটিংয়ের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৩ শতাংশ। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন নেতা হতে প্রার্থীদের লেবার পার্টির ৪০৩ জন এমপির মধ্যে অন্তত ৮১ জনের সমর্থন নিয়ে মনোনয়ন পেতে হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলের সাধারণ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সদস্যদের সরাসরি ভোটে।

তবে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের চাবি হাতে পেলেও অ্যান্ডি বার্নহামের সামনের পথ বেশ কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইউগভের সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, সাধারণ ব্রিটিশ নাগরিকদের মাঝে তাঁর প্রতি অনীহার হার ৩০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ফলে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দেশের স্থবির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে চাঙ্গা করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক-বাণিজ্যিক সম্পর্ক সামলানোর মতো বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীকে।

মন্তব্য করুন