১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করছে যুক্তরাজ্য

প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০১:১২ অপরাহ্ণ
১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করছে যুক্তরাজ্য

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিবেদক:স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটের আসক্তিতে যখন বিশ্বজুড়ে নতুন প্রজন্মের শৈশব বিপন্ন হওয়ার কন্ডিশন তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর লাগাম টেনে ধরতে এক নজিরবিহীন আইনি মেথডলজি বেছে নিচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব। ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, এক্স ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো বিশ্বখ্যাত সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার আইনিভাবে নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আজ সোমবারই (১৫ জুন) ডাউনিং স্ট্রিটের এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এই মেগা ঘোষণা দিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।

আজ সোমবার (১৫ জুন) সকালে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘সাইবার নিরাপত্তা, গ্লোবাল টেকনোলজি ও তথ্যপ্রযুক্তি খতিয়ান’ এবং ‘ডিজিটাল রাইটস, অনলাইন সেফটি পলিসি ও চাইল্ড সাইকোলজি মনিটরিং উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে যুক্তরাজ্যের এই নতুন অনলাইন নিরাপত্তা নীতিমালার সমীকরণ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

যুক্তরাজ্যের অফিশিয়াল ট্র্যাকিং খতিয়ান অনুযায়ী, গত বছরের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়া সরকার তাদের দেশে শিশুদের জন্য যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, যুক্তরাজ্য সেই একই সমীকরণ অনুসরণ করছে। তবে ব্রিটিশ সরকারের এই নতুন গেমপ্ল্যানটিকে বিশ্লেষকরা বলছেন ‘অস্ট্রেলিয়া প্লাস’। কারণ এই নিয়মে কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই বন্ধ হবে না, বরং শিশুদের ব্যবহৃত গেমিং অ্যাপগুলোতে অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্কদের সাথে কথা বলার সুবিধা সম্পূর্ণ সীমিত বা ব্লক করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন আইনের খসড়া মেথড অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য প্রেম কিংবা যৌন বিষয়ক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI) চ্যাটবট ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। একই সাথে রাতের বেলায় অতিরিক্ত সময় ধরে স্ক্রিন স্ক্রোলিং বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রবণতা দূর করতে এবং গভীর রাতে ইন্টারনেট ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ টেকনিক্যাল কন্ডিশন অ্যাপ্লাই করা হতে পারে।

যুক্তরাজ্য সরকারের পরিচালনা করা ‘গ্রোয়িং আপ ইন দ্য অনলাইন ওয়ার্ল্ড’ নামক এক বিশাল অফিশিয়াল জরিপ ও পাবলিক কনসালটেশনে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার নাগরিক অংশ নেন। এই জরিপের খতিয়ান অনুযায়ী, শতকরা ৯০ ভাগ অভিভাবকই শিশুদের জন্য ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়া পুরোপুরি ব্যান বা ব্লক করার পক্ষে জোরালো সায় দিয়েছেন। তবে সরকারের এই কঠোর মেথডের তীব্র সমালোচনাও করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক অধিকার কর্মীরা।

সমালোচকদের মতে, এ ধরণের ঢালাও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে গেলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের মতো স্পর্শকাতর ডাটা সংগ্রহ করতে হবে, যা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাইবার সিকিউরিটিকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ কন্ডিশনে ফেলবে। এছাড়া জোরপূর্বক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দিলে শিশুরা সমসাময়িক বিশ্ব ও অনলাইন জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আইনি এবং মানসিক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে ব্রিটিশ প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিগ টেক বা বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর অনিয়ন্ত্রিত অ্যালগরিদমের হাত থেকে শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক কন্ডিশন ও শৈশবকে রক্ষা করতে সরকার কোনো ধরণের আপস না করার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন