চট্টগ্রাম আনোয়ারায় ঘরে ঢুকে মা মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

প্রকাশ: রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম আনোয়ারায় ঘরে ঢুকে মা মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক:চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গভীর রাতে এক বসতঘরে ঢুকে মা ও মেয়েকে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এক দুর্বৃত্ত। গত শনিবার (১৩ জুন) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আনোয়ারার পারৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি গ্রামে এই নৃশংস জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তের এই বর্বর হামলায় পাঁচ বছর বয়সী অপর এক শিশুসন্তানও গুরুতর জখম হয়েছে।

আজ রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘জেলা আইন-শৃঙ্খলা, অপরাধ দমন ও লিগ্যাল প্রসিডিউর খতিয়ান’ এবং ‘ক্লিনিক্যাল ক্রাইম সিন, ফরেনসিক ইনভেস্টিগেশন ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে এই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট, পারিবারিক বিরোধ এবং আইনি তদন্তের খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত অপরাধ খতিয়ানের বিবরণী অনুযায়ী, চেনামতি গ্রামের বাসিন্দা সুজন বড়ুয়ার পরিবারে সুদের টাকাসহ অভ্যন্তরীণ ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে প্রতিবেশিদের সাথে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে শনিবার রাত ১১টার দিকে একই এলাকার মৃত ব্যক্তির সন্তান তেজপ্রিয় বড়ুয়া (৩৫) ধারালো অস্ত্র নিয়ে সুজন বড়ুয়ার বসতঘরে আকস্মিক প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকে সে সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০), তাঁর ১৬ বছর বয়সী মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া এবং ৫ বছরের শিশুসন্তান পিয়াস বড়ুয়ার ওপর ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে।

পৈশাচিক হামলার পর এনি ও প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার আর্তচিৎকার শুনে প্রতিবেশিরা ছুটে এলে ঘাতক তেজপ্রিয় বড়ুয়া ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পালিয়ে যায়। গ্রামবাসীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করলেও এনি বড়ুয়া ও প্রিয়ন্তী বড়ুয়া ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। গুরুতর আহত শিশু পিয়াস বড়ুয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার মেথড প্রয়োগ করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের শিকার এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া কান্নায় ভেঙে পড়ে পুলিশের কাছে দেওয়া খতিয়ানে জানান, “প্রতিবেশি তেজপ্রিয় বড়ুয়ার সাথে আমাদের কিছু আর্থিক লেনদেন ছিল। আমার ধারণা, সেই সংক্রান্ত কিছু নথিপত্র ও কাগজপত্রের খোঁজে সে রাতে আমাদের বাড়িতে আসে এবং আমার স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর ধারালো ছুরি নিয়ে হামলা চালায়। ঘটনার সময় আমি কর্মসূত্রে চট্টগ্রাম শহরে ছিলাম। রাতে বড় ভাইয়ের মোবাইল ফোন পেয়ে দ্রুত বাড়িতে এসে দেখি আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।”

ঘটনার পর আনোয়ারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল আহমেদ ক্রাইম সিন পরিদর্শন শেষে জানান, জোড়া খুনের খবর পেয়ে রাতেই পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ নিহত মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। প্রাথমিক তদন্তে ও মেথডিক্যাল অ্যানালাইসিসে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের আর্থিক ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত তেজপ্রিয় বড়ুয়া পলাতক থাকায়, তাঁর অবস্থান সনাক্ত করতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। তবে আইনি অনুসন্ধানের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাতেই অভিযুক্তের ভাইকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এই বিষয়ে আনোয়ারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন