দুই মণ ধানের সমান একজন মজুর

প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০১:৩৯ অপরাহ্ণ
দুই মণ ধানের সমান একজন মজুর

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘এই ডাঙ্গায় আট বিঘা জমি লাগাইছি। খরচ হইছে তিন লাখের বেশি। কিষাণ কিনছি ১৪শ টাকা কইরা। আর ধানের মণ বিক্রি করতেছি ৮শ টাকায়। দুই মণ ধান বেইচা একটা কিষাণের টাকা দিতে হইতেছে। এভাবে চাষাবাদ কইরা আর পারমু না।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে আক্ষেপের কথাগুলো বলছিলেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বালাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক শহীদ মোল্লা।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে টুঙ্গিপাড়ার ফসলের মাঠে বসে নিজের লোকসানের হিসাব এভাবেই তুলে ধরেন তিনি। শুধু শহীদ মোল্লা নন, উপজেলার হাজারো কৃষকের চিত্র এখন একই।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে টুঙ্গিপাড়ায় ৮ হাজার ৫৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও আশানুরূপ হয়েছে। তবে স্থানীয় বাজারে ধানের দাম আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় হাসিখুশি কৃষকের মুখ এখন বিষণ্ণ। বর্তমানে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ টাকায়।

মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে ধান আবাদে কৃষকের খরচ হয়েছে প্রায় ২৩ থেকে ২৫ হাজার টাকা। জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, সেচ ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শ্রমিকের উচ্চ মজুরি। এক বিঘা জমির ধান কাটতে অন্তত ৮ জন শ্রমিক প্রয়োজন। প্রতি শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১,২০০ থেকে ১,৪০০ টাকা। অর্থাৎ শুধু ধান কাটতেই বিঘাপ্রতি খরচ হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় গড়ে ২৪-২৫ মণ ধান উৎপাদন হলেও বর্তমান বাজারদরে তা বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০ হাজার টাকার মতো। এতে প্রতি বিঘায় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।

চর গোপালপুর গ্রামের কৃষক মালেক মোল্লা বলেন, ‘তিনজন শ্রমিক আনছি ১৩শ টাকা কইরা। তিন বেলা খাওনও দিতে হইতেছে। ধান লসে বিক্রি কইরা শ্রমিকের টাকা দিতে হচ্ছে।’ বিষণ্ন মনে কৃষাণী শেফালী রানী বলেন, ‘সরকার যে দাম ঘোষণা করছে, সেই দামে তো ধান বিক্রি করতে পারতেছি না। দাম না বাড়লে আমাদের বাঁচা দায়।’

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম স্বীকার করেছেন যে, এ বছর ফলন ভালো হলেও শ্রমিকের উচ্চ মজুরি এবং ধানের বাজারমূল্য কম হওয়ায় কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন