গোল্ডেন বুট নয়, লক্ষ্য বিশ্বকাপ ট্রফি: এমবাপ্পে
স্পোর্টস ডেস্ক: ব্যক্তিগত পুরস্কারের জাঁকজমক পেতে কার না ভালো লাগে! তবে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে যখন সর্বোচ্চ গোলদাতার ‘গোল্ডেন বুট’ পুরস্কারের জন্য কিলিয়ান এমবাপ্পের নাম ঘোষণা করা হলো, তখন ক্যামেরায় ভিন্ন এক দৃশ্য ধরা পড়েছিল। পুরো টুর্নামেন্টে হ্যাটট্রিকসহ সর্বোচ্চ ৮ গোল করেও চরম হতাশ এমবাপ্পের পা যেন ট্রফি বিতরণী মঞ্চের দিকে যেতেই চাচ্ছিল না। মনের বিরুদ্ধে গিয়ে ধীর লয়ে পুরস্কার নিলেও, হাতছোঁয়া দূরত্বে থাকা বিশ্বকাপের মূল সোনালি ট্রফিটি পার হওয়ার সময় মাথা নিচু করে গোমড়ামুখে মঞ্চ ছেড়েছিলেন তিনি। কেননা ওই সোনালি ট্রফিটাই যে তার বড্ড প্রয়োজন ছিল, যা টাইব্রেকারের ভাগ্যে কেড়ে নিয়েছিলেন লিওনেল মেসিরা।
ব্যক্তিগত পুরস্কারের চেয়ে সোনালি ট্রফি জিততে না পারার সেই চরম হতাশা কিলিয়ান এমবাপ্পের চেয়ে আর কেই-বা ভালো বুঝবেন। চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে সেই পুরোনো আক্ষেপ থেকেই যেন ফরাসি অধিনায়ক স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, গোল্ডেন বুট নয়, তিনি এবার বিশ্বকাপ ট্রফিটাই উঁচিয়ে ধরতে চান। তার সাফ কথা, লিওনেল মেসি আরো গোল করুক, তাতে কোনো আপত্তি নেই; তার চাই শুধু সোনালি ট্রফি।
অবশ্য মুখে ব্যক্তিগত পুরস্কারের প্রতি অনীহা দেখালেও মাঠের লড়াইয়ে মেসিকে এক চুলও ছাড় দেননি এমবাপ্পে। গতকাল সুইডেনের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে দুর্দান্ত এক জোড়া গোল করে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ধরে ফেলেছেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে বর্তমানে দুজনেরই গোল সংখ্যা সমান ৬টি করে। ফলে গোল্ডেন বুটের মহালড়াইটা এখন জমে ক্ষীর।
সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ১৬ নিশ্চিত করার পর ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ফরাসি অধিনায়কের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, এবারের গোল্ডেন বুটের পুরস্কারটা শেষ পর্যন্ত কে জিতছেন— তিনি নাকি মেসি?
উত্তরে কিলিয়ান এমবাপ্পে বেশ পরিণত ও কৌশলী জবাব দিয়ে বলেন, “আমি আগে যেমনটা বলেছি, আমার একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে যতটা সম্ভব লড়াই করে আগামী ১৯ জুলাইয়ের ফাইনাল ম্যাচটা খেলা। আমরা দল হিসেবে ম্যাচ জেতার চেষ্টা করছি এবং ধাপে ধাপে সামনের দিকে এগোচ্ছি। অবশ্যই আমি নিজে যত বেশি গোল করব, তালিকার তত ওপরে থাকব, এ নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই।”
লিওনেল মেসির সঙ্গে গোলস্কোরিংয়ের দ্বৈরথ নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড বলেন, “আমি এটাও নিশ্চিত যে, লিও (মেসি) টুর্নামেন্টে আরো গোল করবে। তাই সেদিকে বা সেই ব্যক্তিগত তালিকায় আমার খুব বেশি মনোযোগ বা আগ্রহ নাই। আমি এখন অনেক বেশি মনোযোগী পরবর্তী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে এবং কীভাবে আমাদের মূল লক্ষ্য ফাইনালের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া যায়— তা নিয়ে।”
|