রাজশাহীতে মাদক কারবারে পশু চিকিৎসকের অঢেল সম্পদ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে মাদক কারবারে পশু চিকিৎসকের অঢেল সম্পদ

রাজশাহী ব্যুরো: দেশজুড়ে চলমান মাদকবিরোধী বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানের মধ্যেই রাজশাহীর সীমান্তবর্তী গোদাগাড়ী উপজেলায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন শাহীন আলী নামে এক বড় মাপের মাদক কারবারি। পশুর সাধারণ চিকিৎসক থেকে মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তুলে তিনি এখন কোটি কোটি টাকার অঢেল সম্পদের মালিক বলে স্থানীয় প্রশাসনের তদন্ত ও নথিপত্রে উঠে এসেছে।

শাহীন আলী গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের মাটিকাটা ভাটা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত চারটি মাদক মামলা রয়েছে এবং তিনি একাধিকবার কারাভোগও করেছেন।

নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, শাহীন আলীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিভিন্ন থানায় অন্তত ৪টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে গোদাগাড়ী থানায় একটি (১০ আগস্ট ২০২১) এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে থানায় ২০২২ সালে পরপর তিনটি মামলা দায়ের হয়। এসব মামলার মধ্যে অন্তত দুইটিতে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে দিনাজপুর ও রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে দীর্ঘ দিন কারাভোগ করেছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ বছর আগেও শাহীন আলী তাঁর বাবার সাথে গবাদিপশুর চিকিৎসা ও কবিরাজি করতেন। পাশাপাশি সীমান্তে রাখাল ও গরু পরিবহনের কাজ করতেন। পরবর্তীতে তিনি মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন এবং আলাদিনের চেরাগের মতো বিপুল সম্পদের মালিক হন।

বর্তমানে নিজ গ্রামে তাঁর কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিলাসবহুল দোতলা বাড়ি ও দুটি গরুর খামার রয়েছে। এছাড়া দুটি ট্রাক্টর, দুটি ১০ চাকার বড় ট্রাক, একটি নোহা মাইক্রোবাস ও রাজশাহী মহানগরীর ডাবতলা এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে কোটি কোটি টাকার জমি ও বাড়ি রয়েছে। প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বিঘা কৃষিজমির মালিকানা ছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বড় বা ছোট কোনো কারবারিকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

রাজশাহী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানান, মাদক কারবারিদের নতুন তালিকায় শাহীনের নাম রয়েছে। শুধু অভিযান নয়, মাদক কারবারিদের অবৈধ সম্পদ ক্রোকের প্রক্রিয়াও চলমান।

রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “মাদকের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। তথ্য সংগ্রহ করে বড় চক্রগুলোকে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।”

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন