
এনপিবি প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার প্রধান ও একমাত্র পরিচয় হলো— তিনি জনপ্রশাসন ও জনগণের সেবক। ক্যাডার বা কর্মস্থল ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সবার মূল দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা নিশ্চিত করা। তাই কোনো নাগরিক যেন সরকারি দপ্তরে গিয়ে সামান্যতম হয়রানির শিকারও না হন, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের কঠোর থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সাভারের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) মিলনায়তনে নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চার মাসব্যাপী এই বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে কৃতিত্বের অধিকারী শীর্ষ দশজন কর্মকর্তার হাতে সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক মূল্যবান বক্তব্য দেন তিনি।
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "ক্যাডার বা কর্মস্থল যা-ই হোক না কেন, সবার প্রথম ও প্রধান পরিচয় হলো আপনারা জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা এবং জনগণের সেবক। অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে সবসময় মানবিক আচরণ করতে হবে। কারও আবেদনপত্রে ভুল থাকলে তাকে শুধু ফিরিয়ে না দিয়ে, কীভাবে তা সংশোধন করা যায়—সেটি বুঝিয়ে দেওয়াটাই সত্যিকারের মানবিকতার বহিঃপ্রকাশ।"
এ সময় সরকারি কর্মকর্তাদের ‘নিজের সঙ্গে যেমন আচরণ প্রত্যাশা করেন, অন্যের সঙ্গেও তেমন আচরণ করা’র নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অবশ্যই আইন ও বিধিবিধানের মধ্যে থেকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে, আইনের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে দায়িত্ব পালনের সময় নাগরিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও একটি আধুনিক রাষ্ট্র ও দক্ষ প্রশাসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।
একটি সুনির্দিষ্ট উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো নাগরিক আবেদনপত্র নিয়ে সরকারি দপ্তরে এলে তাতে ভুল থাকতেই পারে। ভুল ধরিয়ে দেওয়া অন্যায় নয়; কিন্তু শুধু ভুল না দেখিয়ে ভুলটি কোথায় হয়েছে এবং কীভাবে তা সংশোধন করা যাবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দিলে নাগরিক উপকৃত হন। এ ধরনের ইতিবাচক আচরণই প্রশাসনের আন্তরিকতা ও মানবিকতার প্রকৃত পরিচয় বহন করে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে আমলাদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের কাছে যে ইশতেহার দেওয়া হয়েছিল, নির্বাচনে জনগণের রায়ের মাধ্যমে সেটি এখন একটি জাতীয় দলিলে পরিণত হয়েছে। এই ইশতেহার বাস্তবায়ন করা বর্তমান সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের মূল প্রশাসনিক কাজগুলো কর্মকর্তাদের অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে।
সরকারি সেবায় দীর্ঘসূত্রতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর বিষয়ে নবীন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারেক রহমান বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন সরকারি সেবা সহজ ও নাগরিকবান্ধব করতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে নবীন কর্মকর্তাদের অত্যন্ত সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
এআইএল/সকালবেলা