
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নকে ভেঙে নতুন ইউনিয়ন ও উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ এবং অখণ্ড ইউনিয়ন পুনর্বহালের দাবিতে সড়কপথ ও রেলপথ অবরোধ করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
আজ রোববার (৮ নভেম্বর ২০২৬) সকাল থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা কেবিন এলাকায় শত শত বাসুদেব ইউনিয়নবাসী জড়ো হয়ে রেললাইন ও সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এই হঠাৎ অবরোধের ফলে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে সব ধরনের ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই দুই রেলরুটে চলাচলকারী পারাবত এক্সপ্রেস, পর্যটক এক্সপ্রেস, মহানগর গোধূলি/প্রভাতী, সুবর্ণ এক্সপ্রেসসহ বেশ কিছু যাত্রীবাহী ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনের মাঝপথে আটকা পড়েছ এবং ট্রেনগুলোর নির্দিষ্ট সময়ে যাত্রা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের গত মে মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম—কোড্ডা, বৈষ্ণবপুর, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, চান্দি ও বরিশলকে নিয়ে ‘বরিশল’ নামে একটি নতুন ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করে তা আখাউড়া উপজেলার সাথে যুক্ত করা হয়। এ সংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয় চলতি বছরের ৪ জুন। শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন বাসুদেব ইউনিয়নবাসী।
এর রেশ না কাটতেই সম্প্রতি সদর উপজেলার বাসুদেব, সুলতানপুর ও রামরাইল—এই তিনটি ইউনিয়নকে যুক্ত করে ‘বরিশল’ নামে নতুন একটি উপজেলা গঠনের একটি প্রস্তাব সামনে আসে। জানা যায়, জেলা বিএনপি নেতা কবির আহমেদ ভূঁইয়ার একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ সম্প্রতি এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি দাপ্তরিক চিঠি প্রেরণ করে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এদিকে আকস্মিক এই অবরোধের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, "অবরোধের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে। জনমাল ও ট্রেনের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে রেলপথ থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।"