
সারা দেশের ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বা পরিচালনা পর্ষদ বাতিল ঘোষণা করে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইআবি) নেওয়া বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ওই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতাও স্থগিত করা হয়েছে।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ রিট শুনানির প্রাথমিক পর্যায়ে এই আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা ও শুনানি করেন অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন।
এর আগে গত গত ১৯ অক্টোবর ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এ কে মুহা. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে দেশের ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বাতিলের বিষয়টি জানানো হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জারি করা ওই আদেশে বলা হয়েছিল, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত দেশের সমস্ত ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির কমিটিগুলো ভেঙে দেওয়া হলো। পাশাপাশি ওই সময়ে মাদ্রাসাগুলোতে দ্রুত অ্যাডহক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় সংবিধি-২০২৩-এর বিধি অনুযায়ী সভাপতি ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য পদে নতুন মনোনয়নও দেওয়া হয়েছিল।
উক্ত আদেশে জেলা সদরে অবস্থিত মাদ্রাসার সভাপতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক এবং জেলা সদরের বাইরের মাদ্রাসার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়। এছাড়া বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে জেলা পর্যায়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত নির্ধারিত ফরমে প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিভিন্ন মাদ্রাসার পরিচালনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হওয়ায় এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। আজকের আদেশের ফলে আপাতত ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসাগুলোর পুরনো গভর্নিং বডি বাতিলের প্রক্রিয়া ও নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের কার্যক্রম থমকে গেল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।