
স্টাফ রিপোর্টার: চলতি বছর বেসরকারি ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়া ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর বীমা বহির্ভূত চিকিৎসা ব্যয় বাবদ কেটে রাখা অর্থ ফেরত দিয়েছে সৌদি আরব।
রোববার (১ নভেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
তিনি জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ফেরত পাওয়া অর্থের পরিমাণ মোট ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
হজযাত্রীদের আর্থিক অধিকার সুরক্ষা ও দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য মন্তব্য করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের নাগরিকদের সেবা ও আর্থিক স্বস্তি প্রদানে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি হজ এজেন্সির আওতাধীন ৩১০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ রিয়াল এবং সরকারি ব্যবস্থাপনার ৩০ জনের বিপরীতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২ রিয়াল কেটে রেখেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি জানতে পেরে ধর্ম মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক তৎপরতা চালায় এবং গত ২৯ অক্টোবর সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত আসে।
বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাজনিত কারণে জটিল ব্যাধিগ্রস্ত বা অন্তঃসত্ত্বা নারীদের হজে পাঠানোর ক্ষেত্রে সৌদি সরকারের কিছু স্পষ্ট নির্দেশনা থাকে। তবে মেডিকেল বোর্ডের কিছু অসাবধানতার কারণে এমন ব্যক্তিরা হজে যাওয়ায় সাময়িকভাবে এই অতিরিক্ত খরচের সৃষ্টি হয়েছিল।
সৌদি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সৌদি সরকার আমাদের প্রস্তাব বিবেচনা করেছে। আশা করা যায়, দুই দেশের বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে।
ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ২০২৬ সালের হজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৭ সালের হজের বিমান ভাড়া চলতি বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এআইএল/সকালবেলা