
মানজুরুল ইসলাম, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাসে শিক্ষকদের অনুপস্থিতিতে নৈশপ্রহরী দিয়ে পাঠদান এবং এর প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের খোড়াগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাদশা আলমসহ মোট চারজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষিকারা নিজ নিজ শিশু সন্তানদের সাথে নিয়ে স্কুলে আসায় তাদের দেখভাল করতেই ব্যস্ত থাকেন। ফলে প্রায়শই শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করান বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী আহসান হাবীব।
সম্প্রতি নৈশপ্রহরী কর্তৃক পাঠদানের দৃশ্য ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ করেন কামরুজ্জামান নয়ন মণ্ডল নামে এক অভিভাবক। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই অভিভাবকের শিশুপুত্র তাওহীদের (প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি) নাম হাজিরা খাতা থেকে ফ্লুইড দিয়ে মুছে বাদ দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। ফলে শিশুটির স্কুলে যাওয়া ও পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে।
এ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাদশা আলমের বিরুদ্ধে আপন স্বজনদের নিয়ে ‘পকেট ম্যানেজিং কমিটি’ গঠনের চেষ্টা এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।
ভুক্তভোগী অভিভাবক কামরুজ্জামান নয়ন মণ্ডল বলেন, "নৈশপ্রহরী দিয়ে ক্লাস নেওয়ার প্রতিবাদ করায় আমার ছেলের নাম ফ্লুইড দিয়ে মুছে দেওয়া হয়েছে। এখন ছেলের পড়াশোনা বন্ধ।"
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাদশা আলম বিষয়টিকে মিথ্যা বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহিদুল ইসলাম ফারুক জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এআইএল/সকালবেলা