
বিশেষ প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাবি সিন্ডিকেট। একই সঙ্গে বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগে আরও ছয়জন অধ্যাপককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদানসহ তিন শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত ২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং শ্রেণিকক্ষে ও বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণের সত্যতা পাওয়ায় অধ্যাপক সাদেকা হালিমকে সাময়িক বরখাস্ত করে তাঁর চাকরিচ্যুতির বিষয়টি স্থায়ী সিদ্ধান্তের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে। ড. সাদেকা হালিম আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ছিলেন।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী কর্মকাণ্ড ও নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিত, ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ এবং পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলামকে (রফিক শাহরিয়ার) চেয়ারম্যানের পদসহ সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকেও গবেষণা চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
সিন্ডিকেটের এসব সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানান, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
সভায় ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমুদয় নিয়োগ এবং হেকেপ (HEQEP) প্রকল্পের গবেষণা তহবিলের ব্যবহার খতিয়ে দেখতে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া 'ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকবৃন্দ' প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া ২৩১ জন শিক্ষকের তালিকা এবং আওয়ামী লীগপন্থী 'নীল দল'-এর বিতর্কিত কার্যক্রম তদন্তে চার সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সিন্ডিকেট।
প্রশাসনিক অন্যান্য সিদ্ধান্তের মধ্যে প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) এ কে এম মাহবুব মুস্তাফাকে বরখাস্ত এবং মলচত্বরে 'জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ' নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা আগামী ৫ আগস্ট শুভ উদ্বোধন করা হবে।
এআইএল/সকালবেলা