
ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীর দাগনভূঞায় টানা ৪০ দিন মসজিদে জামাতের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে পুরস্কার হিসেবে নতুন বাইসাইকেল পেয়েছে ৯ জন শিশু-কিশোর। একই সঙ্গে ১০টি সূরা মুখস্থ ও মাসআলা-মাসায়েল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আরও ৪১ জন শিশু পেয়েছে আকর্ষণীয় শিক্ষা উপকরণ ও ইসলামিক বই।
আজ শনিবার (২০ জুন) বিকালে দাগনভূঞা উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের ওমরাবাদ গ্রামে সামাজিক সংগঠন ‘আলোর মশাল’-এর উদ্যোগে বিজয়ীদের মাঝে এই পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, কোমলমতি শিশু-কিশোররা যাতে শৈশব থেকেই মসজিদে যেতে অভ্যস্ত হয়, নামাজের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে এবং সমাজে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা পায়—সেই লক্ষ্যেই আলোর মশাল এই ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
এই নামাজ প্রতিযোগিতা ও ইসলামী জ্ঞান অন্বেষণ ইভেন্টে স্থানীয় তিনটি মসজিদের মোট ৪১ জন শিশু-কিশোর অংশ নেয়। এর মধ্যে যারা কোনো ওয়াক্ত বাদ না দিয়ে টানা ৪০ দিন তাকবিরে উলার সাথে জামাতে নামাজ পড়েছে, এমন ৯ জন ভাগ্যবান কিশোরের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন বাইসাইকেল। এছাড়া অংশ নেওয়া ৪১ জন শিশুর প্রত্যেককে স্কুলব্যাগসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী, ক্রেস্ট ও বই উপহার দেওয়া হয়।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শহীদ উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ ও সমাজসেবক অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া। প্রধান বক্তা ছিলেন দাগনভূঞা-সোনাগাজী উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ডা. ফখরুদ্দিন মানিক।
বেতুয়া দাখিল মাদ্রাসার সহ-সুপার মাওলানা মনির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হারুন, ওমরাবাদ সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি নুরুল আফসার, আইআইইউসির প্রভাষক আহমদ শাহ মাসুদ সাইফুল, পূর্ব চন্দ্রপুর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ফখরুল ইসলাম, এবং আমুভূঞারহাট হাসানিয়া দাখিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আবদুল ওহাব।
আলোর মশালের আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন বলেন, "এই ঘোষণার পর থেকে শিশুরা অত্যন্ত আগ্রহের সাথে মসজিদে নিয়মিত আসা শুরু করে। নামাজের পাশাপাশি আমরা তাদের পবিত্র কুরআনের প্রাথমিক কিছু সূরা অর্থসহ মুখস্থ করিয়েছি। আগামীতেও শিশুদের নৈতিক চরিত্র গঠনে আমাদের এই ধরনের শিক্ষণীয় প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।"
এআইএল/সকালবেলা