
বিনোদন প্রতিবেদক:বাঙালি মানসে কবি জীবনানন্দ দাশ এবং তাঁর সৃষ্টি ‘বনলতা সেন’ চিরকালই এক পরম আবেগ ও রোমান্টিকতার নাম। সেই কালজয়ী সাহিত্যকে সেলুলয়েডের ফিতায় বন্দী করে দেশীয় বক্স অফিসে দারুণ সাড়া জাগানোর পর, এবার বিশ্বমঞ্চের দরবারে হাজির হচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বনলতা সেন’। দেশের সিনেমা হলগুলোতে সফলভাবে মুক্তির তিন সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পর, এবার সিনেমাটির অফিশিয়াল ডিস্ট্রিবিউশন টিম প্রবাসী দর্শকদের জন্য এক বড় আন্তর্জাতিক সুখবর নিয়ে এসেছে। ক্যাঙ্গারুর দেশ হিসেবে খ্যাত অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ও সিডনিসহ পাঁচটি প্রধান শহরে খুব দ্রুতই সিনেমাটির প্রিমিয়ার ও বাণিজ্যিক প্রদর্শনী শুরু হতে যাচ্ছে।
আজ রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘সেলিব্রিটি লাইফস্টাইল, গ্লোবাল কনসার্ট ট্র্যাকিং ও বিনোদন খতিয়ান’ এবং ‘পপ কালচার ট্রেন্ড, থিয়েট্রিক্যাল ডিস্ট্রিবিউশন মেথড ও ওভারসিজ কালচারাল উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে সিনেমাটির বৈশ্বিক রিলিজ কন্ডিশন ও কলাকুশলীদের বিবরণ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
চলচ্চিত্র মহলের ট্র্যাকিং খতিয়ান অনুযায়ী, ‘বনলতা সেন’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন দেশের খ্যাতিমান নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। আন্তর্জাতিক মুক্তির এই কন্ডিশন নিয়ে অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে নির্মাতা বলেন, “আমাদের নিজেদের চেনা মাটিতে ‘বনলতা সেন’ যেভাবে সাধারণ দর্শক ও চলচ্চিত্র সমালোচকদের ভালোবাসা ও প্রশংসা পেয়েছে, তা পুরো টিমকে ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বিপুল সংখ্যক বাংলা ভাষাভাষী প্রবাসী ভাই-বোনদের কাছ থেকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি মুক্তির জন্য কড়া অনুরোধ পাচ্ছিলাম। সেই বিপুল চাহিদার সমীকরণ মাথায় রেখেই আমরা দেশটির প্রধান পাঁচটি শহরে একযোগে ছবিটি মুক্তির আইনি ও বাণিজ্যিক উদ্যোগ নিয়েছি।”
পরিচালক আরও জানান, খুব শিগগিরই অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় থিয়েটারগুলোর নাম ও প্রদর্শনীর চূড়ান্ত সময়সূচি (Showtime) দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। শুধু অস্ট্রেলিয়াই নয়, এই মেথডলজি সফল হওয়ার পর ইউরোপ ও আমেরিকার মতো পশ্চিমা বিশ্বের আরও কয়েকটি প্রধান দেশেও ছবিটি পর্যায়ক্রমে মুক্তির বড় পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁরা চান, খাঁটি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক মানের কাজটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সব শ্রেণির দর্শকদের কাছে পৌঁছে যাক।
সিনেমার প্রোডাকশন খতিয়ান থেকে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ চলচ্চিত্র অনুদানপ্রাপ্ত সিনেমা ‘বনলতা সেন’। দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের মন্দা কন্ডিশন কাটিয়ে এটি গত পবিত্র ঈদুল আজহার মহোৎসবে দেশের নামী দামী মাল্টিপ্লেক্স ও একক প্রেক্ষাগৃহগুলোতে একযোগে মুক্তি পায়। মুক্তির পর থেকে আজ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে দর্শক চাহিদার কারণে এর নিয়মিত প্রদর্শনী ও ভালো সেল অব্যাহত রয়েছে।
এই চলচ্চিত্রে নামভূমিকা অর্থাৎ রহস্যময়ী ‘বনলতা সেন’ চরিত্রে অসাধারণ ও পরিণত অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা। অন্যদিকে, রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের জটিল ও মনস্তাত্ত্বিক চরিত্রে রূপালী পর্দায় দেখা গেছে এই প্রজন্মের শক্তিশালী অভিনেতা খাইরুল বাশারকে।
এছাড়াও চলচ্চিত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক চরিত্রে নিজেদের অভিনয়ের মেথডলজি ফুটিয়ে তুলেছেন গাজী রাকায়েত, সোহেল মণ্ডল, নাজিবা বাশার, প্রিয়ন্তী উর্বী, রূপন্তী আকিদ এবং শরীফ সিরাজসহ নাট্যপাড়ার আরও অনেক গুণী অভিনয়শিল্পী। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, জীবনানন্দের কালজয়ী কবিতার অন্তরালে লুকিয়ে থাকা বাস্তব জীবনের ট্র্যাজেডি ও সাহিত্যচর্চাকে যেভাবে পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলা চলচ্চিত্রের আইনি ও শৈল্পিক মর্যাদা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
জান্নাত সকালবেলা