
নিজস্ব প্রতিবেদক : গত ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেনকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কারাবন্দি সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কড়া পুলিশি পাহারায় একটি প্রিজন ভ্যানে করে তাঁকে ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয়। ভ্যান থেকে নামিয়ে আদালত ভবনে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “হাসপাতাল থেকে আসছি, দোয়া করবেন।” তবে ঠিক কোন হাসপাতাল থেকে বা কী কারণে তাঁকে সরাসরি আদালতে আনা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিজে বিস্তারিত কিছু বলেননি। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে দ্রুত আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
জুনাইদ আহমেদ পলকের ব্যক্তিগত আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফারজানা ইয়াসমিন রাখি তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান, “একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে গুরুতর সমস্যা হওয়ার কারণে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্বরত চিকিৎসক নিয়মিত ‘ম্যাগনেটিক থেরাপি’ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আমাদের আইনি আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে দেশের মূলধারার গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়। সেই আলোচনার সূত্র ধরেই কারা কর্তৃপক্ষ বর্তমানে তাঁকে থেরাপি দেওয়ার সুব্যবস্থা করেছে। এই মানবিক ও পেশাদারী দায়িত্ব পালনের জন্য জুনাইদ আহমেদ পলক নিজে সাংবাদিকদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।”
সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদপুরের আলোচিত ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলায় আজ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জ ফ্রেম) শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। এই মামলার এজাহারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ ও দলীয় নেতাকর্মী মিলিয়ে মোট ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিজ্ঞ বিচারকের সামনে আজ এই হাই-ভোল্টেজ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের তীব্রতা চলাকালীন গত ১৯ জুলাই ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। ওই একই ঘটনায় সাজ্জাদ ও শাহিন নামে আরও দুই পথচারী গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে হোসেনের মৃত্যুর ঘটনা ও হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে তাঁর স্ত্রী মোসা. রীনা বেগম বাদী হয়ে ৩১ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত বছরের ২৩ নভেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আকরামুজ্জামান শেখ হাসিনাসহ মোট ৩৪ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
মামলার প্রধান আসামি শেখ হাসিনা ছাড়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান।
এছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মধ্যে আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক ওরফে তুহিন, রহমান মিয়া ওরফে এ কে এম অহিদুর রহমান, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া ওরফে এম এ সাত্তার, পারভেজ ওরফে গোল্ডেন পারভেজ, সুমনা মিয়া ওরফে কাইল্লা সুমন, মিলন হোসেন, সোহেল ওরফে ভূঁইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান, ফুরকান হোসেন, শাহজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি এবং নাইমুল হাসান রাসেলকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, চার্জশিটভুক্ত ৩৪ জন আসামির মধ্যে জুনাইদ আহমেদ পলক, সাদেক খান, ফুরকান হোসেন ও শাহজাহান খান বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন এবং বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
জান্নাত সকালাবেলা