সৌদিতে ব্যবসায়িক চাপের মুখে প্রবাসী বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মনছুর আলম (৩০) নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ব্যবসার হিসাব-নিকাশ নিয়ে অংশীদারদের সঙ্গে বিরোধ, মিথ্যা চুরির অপবাদ এবং দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের কারণেই তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাতে রিয়াদের একটি বাসায় এই ঘটনা ঘটে। পরদিন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিকটাত্মীয়দের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।
মৃত মনছুর আলম চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সুখছড়ির আকিকার পাড়ার নুরুল কবিরের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে প্রায় তিন বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান মনছুর। সেখানে মদিনা শহরে চারজন অংশীদারের সঙ্গে মিলে তিনি একটি মুদি দোকানের ব্যবসায় যুক্ত হন। কিন্তু প্রায় আট মাস আগে ব্যবসার নানা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার পর হিসাব-নিকাশ নিয়ে অপর অংশীদারদের সঙ্গে তাঁর ভুল বোঝাবুঝি ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, একপর্যায়ে মনছুরের বিরুদ্ধে ব্যবসা থেকে টাকা চুরির মিথ্যা অভিযোগ তোলেন তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদাররা। শুধু তাই নয়, তাঁকে মারধর করে জোরপূর্বক দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। ওই ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে মনছুর মদিনা ছেড়ে রিয়াদে তাঁর চাচাতো ভাই রবিউল হোসেনের বাসায় চলে যান।
পরিবারের দাবি, রিয়াদে চলে যাওয়ার পরও অভিযুক্ত ব্যবসায়িক অংশীদাররা বিভিন্ন সময় ফোন ও বিভিন্ন মাধ্যমে মনছুরকে চাপ ও হুমকি দিয়ে হয়রানি করতেন। এসবের জেরে তিনি চরম মানসিক অবসাদ ও চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।
এদিকে ঘটনার দিন রোববার দুপুরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মনছুরকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান চাচাতো ভাই রবিউল হোসেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাসায় নিয়ে আসা হয় এবং ওই রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ব্যবসায়িক বিরোধ ও হয়রানিমূলক চাপের কারণেই মনছুর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন দাবি করে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে বা কারও কোনো দায় থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
বর্তমানে মনছুরের মরদেহ রিয়াদের একটি স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা যায়নি।