বম্বে হাইকোর্টে বড় আইনি স্বস্তি পেলেন সালমান খান

প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০২:৫৩ অপরাহ্ণ
বম্বে হাইকোর্টে বড় আইনি স্বস্তি পেলেন সালমান খান

বিনোদন ডেস্ক:বলিউডের ‘সুলতান’ সালমান খানের মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার প্যানভেলে অবস্থিত বিলাসবহুল ‘অর্পিতা ফার্মস’ নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ে এক নাটকীয় ও ইতিবাচক মোড় এসেছে। নিজের নামের সম্মান ও ব্র্যান্ড ভ্যালু রক্ষায় অভিনেতার দায়ের করা মানহানি মামলায় বম্বে হাইকোর্ট থেকে বড় রকমের স্বস্তি ও আইনি সুরক্ষা পেয়েছেন এই সুপারস্টার।

আজ শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘তারকা কথন, গ্ল্যামার দুনিয়া ও আন্তর্জাতিক বিনোদন খতিয়ান’ এবং ‘কোর্ট প্রসিডিংস, সাইবার আইন ও আইনি ব্যাখ্যা উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে সালমান খানের এই মেগা মামলার রায়ের খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

বম্বে হাইকোর্টের প্রখ্যাত বিচারপতি শর্মিলা দেশমুখের একক বেঞ্চে এই হাইপ্রোফাইল মামলাটির চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি চলাকালীন আদালত অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানান, ব্যক্তিগত বা সম্পত্তি-সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের বিরোধের সমাধান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাদা ছোড়াছুড়ির বা ট্রল করার মাধ্যমে হতে পারে না; বরং এর সমাধান আইনি পথেই হওয়া বাঞ্ছনীয়। আদালত আরও প্রশ্ন তোলেন, বিষয়টি যখন অলরেডি আদালতের বিচারাধীন বা সাব-জুডিস রয়েছে, তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে নতুন করে মুখরোচক চর্চা বা বিতর্ক তৈরি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। সোশ্যাল মিডিয়া কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভ উগরে দেওয়ার জায়গা নয়। আইনি লড়াই আদালতেই লড়তে হবে, ভার্চুয়াল দুনিয়ায় নয়।

প্যানভেলে অবস্থিত সালমানের বিশাল ফার্মহাউসের ঠিক পাশেই রয়েছে কেতন কক্কড় নামের এক ব্যক্তির জমি। কেতনের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, এই খামারবাড়ি বা ফার্মহাউস তৈরির সময় সালমান খান ও তার প্রভাবশালী পরিবার একাধিক পরিবেশগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম কঠোরভাবে লঙ্ঘন করেছেন। শুধু তাই নয়, তার নিজস্ব জমিতে যাতায়াতের একমাত্র সাধারণ রাস্তাও সালমান খানের বাউন্ডারির কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। কেতনের অভিযোগের তালিকায় আরও ছিল—তার জমিতে থাকা বিদ্যুৎ সংযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সালমানদের ইশারায় বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, তার ব্যক্তিগত সম্পত্তির কিছু অংশ অবৈধভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং কিছু সরকারি নথিতে জালিয়াতি ও কারচুপি করে জোরপূর্বক তার পৈত্রিক জমি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি এই বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাকে স্থানীয় প্রশাসনিক স্তর থেকে নানা ধরনের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

তবে প্রতিবেশীর এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগকে শুরু থেকেই সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন, মনগড়া ও অসত্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে সালমান খানের প্যানেল আইনজীবীরা। আদালতের কাছে সালমানের আইনি দল অত্যন্ত সুকৌশলে প্রমাণ হাজির করে দাবি করেন, কেতন কক্কড় যে জমিটি নিয়ে এত বড় বড় দাবি করছেন, সেই জমি সংক্রান্ত মূল বাণিজ্যিক লেনদেনটিই ছিল সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত ও অবৈধ। আর সেই সুনির্দিষ্ট আইনি ত্রুটি ও জালিয়াতির কারণেই পরবর্তীতে জমি রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষ তা বাতিল বা রদ করেছিল; ফলে সেখানে সালমান খানের জোর খাটানোর বা জমি কেড়ে নেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। প্রতিবেশীর আইনি ভিত্তি না থাকায় তিনি স্রেফ সালমানের তারকাখ্যাতি নষ্ট করতে ইউটিউব ও ফেসবুকে কুৎসা রটাচ্ছিলেন। বম্বে হাইকোর্ট সালমানের আইনজীবীদের এই যুক্তি আমলে নিয়ে কেতনকে অনতিবিলম্বে ইন্টারনেট থেকে সালমানের মানহানিকর সব কনটেন্ট ডিলিট করার নির্দেশ দেন, যা সালমান ভক্তদের মাঝে স্বস্তি এনে দিয়েছে।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন