চিৎকার না করলে সেদিন আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করত: ফারিন

প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০২:০৫ অপরাহ্ণ
চিৎকার না করলে সেদিন আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করত: ফারিন

বিনোদন ডেস্ক : সেদিন আল্লাহ আমাকে কোনোমতে রক্ষা করেছেন, কিন্তু মানসিকভাবে যে কী পরিমাণ চাপা যন্ত্রণা আর তীব্র আতঙ্ক অনুভব করেছি, সেটা শুধু আমি আর আমার ওপরওয়ালাই জানেন।” আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন ও চাঞ্চল্যকর স্ট্যাটাসে কিছুদিন আগে নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ও লোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা এভাবেই তুলে ধরেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ফারিন খান।

ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে অভিনেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সময়মতো তিনি সাহসিকতার সাথে চিৎকার না করলে দুর্বৃত্তরা হয়তো তাকে নির্মমভাবে মেরে ফেলে সবকিছু লুটপাট করত, এমনকি ধর্ষণের চেষ্টাও করত।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে ফারিন ফেসবুকে লেখেন, “গত ১৩ মে একটি শুটিংয়ের কাজে জামালপুর যাওয়ার পথে আনুমানিক রাত ৩টা ১৫ মিনিটে প্রাকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাধ্য হয়ে রাস্তার ধারের একটি পেট্রোল পাম্পের ওয়াশরুমে যাই। ভেতরে যাওয়ার ঠিক কয়েক মিনিট পর হঠাৎই আমার মনে হলো, আমার ঠিক পেছনে কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে। সাথে সাথে পেছনে তাকিয়ে দেখি, ওয়াশরুমের ওপরের ভেন্টিলেটর দিয়ে দুটো হাত ঠিক আমার গলার কাছে চলে এসেছে!”

তিনি আরও লেখেন, “হয়তো আমি ঠিক সময়মতো চিৎকার করে না উঠলে সেই রাতে আমাকে মেরে আমার সাথে থাকা সবকিছু লুটপাট করা হতো, এমনকি চরমভাবে ধর্ষণের চেষ্টাও চালানো হতো। তবে আমি কোনো কিছু না ভেবে চিৎকার করে দ্রুত ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসি। আমার ড্রাইভার গাড়িতে বসেই সেই চিৎকার শুনে দ্রুত এগিয়ে আসে। সে লোকটাকে ধরার জন্য ধাওয়া করলে লোকটা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।”

পরবর্তীতে ফারিন তার ড্রাইভারকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, লোকটাকে সে আগেই ওয়াশরুমের পেছনের দিকে হেঁটে যেতে দেখেছিল। তবে লোকটার হাতে অনেকগুলো ডিমের খোসা ছিল, তাই ড্রাইভার ভেবেছিল পাম্পের কোনো কর্মী হয়তো ময়লা বা উচ্ছিষ্ট ফেলতে পেছনের দিকে যাচ্ছে।

ভয়াবহ সেই রাতের মানসিক অবস্থা বর্ণনা করে এই অভিনেত্রী লেখেন, “আমার চিৎকার শুনেই ড্রাইভার বুঝতে পারে যে ভেতরে খারাপ কিছু একটা ঘটেছে। বাইরে থেকে হয়তো আমি নিজেকে শক্ত ও সাহসী রাখার চেষ্টা করেছি, কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি কতটা ভয় পেয়েছিলাম এবং কুঁকড়ে গিয়েছিলাম, সেটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো কোনো শব্দ আমার জানা নেই।”

জামালপুরে পৌঁছানোর পরদিন ঘটনাটি তিনি তাঁর শুটিং ইউনিটের সবাইকে জানিয়েছেন উল্লেখ করে ফারিন লেখেন, “প্রথমে ভাবছিলাম লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি চেপে যাব, কাউকে কিচ্ছু বলব না। কিন্তু পরে ভাবলাম এটা অন্যায়। তাই পরের দিন শুটিং ইউনিটের অনেকের সঙ্গেই বিষয়টি বিস্তারিত শেয়ার করেছি। জীবনে এর চেয়ে ভয়ংকর ও ট্রমাটিক অভিজ্ঞতা আমার খুব কমই হয়েছে। আল্লাহ হয়তো সেদিন অলৌকিকভাবে আমাকে রক্ষা করেছেন। কিন্তু মানসিকভাবে আমি যে কতটা ভেঙে পড়েছিলাম, কতটা আতঙ্ক আর চাপা ট্রমার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি, তা শুধু আমিই উপলব্ধি করছি।”

পোস্টের শেষ অংশে দেশের বিদ্যমান নারী নিরাপত্তা ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে ফারিন লেখেন, “আমরা যারা পেশাগত কারণে প্রতিনিয়ত বাইরে কাজ করি, তারা ভালো করেই জানি যে বাইরে নারীদের কত ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। যে দেশে একজন নারীকে সবার আগে তার পোশাক দিয়ে বিচার করা হয় এবং যেখানে ধর্ষণের মতো পাশবিক আচরণকেও শেষমেষ মেয়েদেরই দোষ হিসেবে দেখা হয়, সেখানে আর কী বলার আছে! বাংলাদেশের ইতিহাসে তেমন কোনো দৃষ্টান্তমূলক বিচার কখনো হয়নি, যেটার ভয়ে এই ধরনের অপরাধ চিরতরে বন্ধ হবে। সত্যিই এই দেশে মেয়েরা কোথাও নিরাপদ না।” অভিনেত্রীর এই সাহসী পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরাধীর শাস্তির দাবিতে নেটিজেনদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

জান্নাত সকালাবেলা