কারমাইকেল কলেজের ফটক নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন

প্রকাশ: সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৪ অপরাহ্ণ
কারমাইকেল কলেজের ফটক নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন

আবু রায়হান, রংপুর: দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে রংপুরের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী কারমাইকেল কলেজের মূল ফটক ও অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এ প্রকল্পের মাধ্যমে কলেজের অবকাঠামোগত সৌন্দর্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর ১২টায় কারমাইকেল কলেজের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. আবুল হোসেন মণ্ডল।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কারমাইকেল কলেজ উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও আধুনিকায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি দৃষ্টিনন্দন ও টেকসই প্রধান ফটক নির্মাণ সময়ের দাবি ছিল। নতুন ফটক এবং অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে কলেজে আগত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও দর্শনার্থীরা আরও উন্নত পরিবেশ পাবেন।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, রংপুর কার্যালয়ের জারি করা কার্যাদেশ সূত্রে জানা যায়, "রংপুর সদরস্থ কারমাইকেল কলেজে গেট ও অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ" শীর্ষক প্রকল্পের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৮১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে মেসার্স স্বপন কনস্ট্রাকশনকে ১ কোটি ৬২ লাখ ৪৩ হাজার ৪০৪ টাকায় কাজটি প্রদান করা হয়, যা প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ কম।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রতীশ চন্দ্র সেন স্বাক্ষরিত কার্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, কাজটি এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। কার্যাদেশ জারির সাত দিনের মধ্যে কাজ শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং অনুমোদিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বলেন, কলেজের প্রধান ফটক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও আধুনিকায়নের প্রয়োজন ছিল। নতুন ফটক নির্মিত হলে কলেজের সৌন্দর্য যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদাও আরও উজ্জ্বল হবে।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, নির্ধারিত নকশা ও মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা হবে। নির্মাণকাজে গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর নিয়মিত তদারকি করবে।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথিরা নির্মাণকাজের স্থান পরিদর্শন করেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন