দুই মামলায় ইরফান সেলিমের জামিন

অস্ত্র মাদক পাওয়ায় মামলা : র‌্যাব ডিজি

ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমকে দন্ডপ্রাপ্ত দুই মামলায় জামিন দিয়েছে আদালত। গতকাল ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জামিনের এ আদেশ দেন। এর আগে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত গত বছর ২৬ অক্টোবর ইরফান সেলিমকে অবৈধ ওয়াকিটকি রাখার দায়ে ছয় মাস ও বিদেশি মাদক রাখার দায়ে এক বছরের কারাদন্ড দেন।

এ বিষয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবী প্রাণনাথ সাংবাদিকদের জানান, ইরফান সেলিমকে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া সাজার বিরুদ্ধে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আপিল করা হয়। শুনানি শেষে গতকাল ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন দেন বিচারক। এ ছাড়া ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে করা অস্ত্র আইনের মামলায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করা হয়েছিল। গতকাল ওই মামলায় শুনানি না করে জামিন আবেদন প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তবে ওয়াকিটকি ও মাদকের দুই মামলায় জামিন পেলেও ইরফানের মুক্তি মিলছে না। কারণ তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অন্য মামলাগুলোতে জামিন হয়নি।

এদিকে ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক মামলায় গতকাল আদালতে ‘চূড়ান্ত প্রতিবেদন’ (ফাইনাল রিপোর্ট) দাখিল করে তার অব্যাহতি চেয়েছে পুলিশ। চূড়ান্ত প্রতিবেদন দুটিতে বলা হয়েছে, মিসটেক অব ফ্যাক্টস। অর্থাৎ তথ্যগত ভুল ছিল। সে কারণে এ প্রতিবেদন দিয়ে আসামির অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে। তবে ইরফানের দেহরক্ষী জাহিদুল মোল্লার বিরুদ্ধে হওয়া অস্ত্র ও মাদক আইনের অন্য দুটি মামলায় অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় তাকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। এর আগে ইরফান সেলিম ও জাহিদুল মোল্লার বিরুদ্ধে ওই চারটি মামলা দায়ের করেছিলেন র‌্যাব-৩-এর ডিএডি মো. কাইয়ুম ইসলাম। মামলা সূত্রে জানা গেছে, মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২৬ অক্টোবর নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমেদ খান বাদী হয়ে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন- সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম (৩৭), তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদ (৩৫), হাজী সেলিমের মদীনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এ বি সিদ্দিক দিপু (৪৫), গাড়িচালক মিজানুর রহমান (৩০) এবং অজ্ঞাতপরিচয়ের দুই-তিনজন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ইরফানের গাড়ি লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফের মোটরসাইকেলে ধাক্কা মারার পর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ সড়কের পাশে মোটরসাইকেলটি থামান এবং গাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়ান। তিনি নিজের পরিচয় দেন। তখন গাড়ি থেকে আসামিরা একসঙ্গে বের হয়ে ওয়াসিফকে কিল-ঘুষি মারেন এবং তার স্ত্রীকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। তারা মারধর করে ওয়াসিফকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যান।

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনার পর ঢাকার সোয়ারীঘাটের দেবী দাস লেনে এমপি হাজী সেলিমের বাড়িতে দিনভর অভিযান চালায় র‌্যাব। তল্লাশিতে সেখানে আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক ও ওয়াকিটকি পাওয়ার কথা জানানো হয়। এ সময় মাদক রাখার দায়ে ইরফানকে এক বছর এবং অবৈধভাবে ওয়াকিটকি রাখায় ছয় মাসের কারাদন্ড দেয় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। আর তার দেহরক্ষী জাহিদকে ওয়াকিটকি বহন করার দায়ে ছয় মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া ওই দিন মধ্যরাতে চকবাজার থানায় ওই দুজনের বিরুদ্ধে র‌্যাবের পক্ষ থেকে চারটি মামলাও করা হয়। ইরফানের কাছ থেকে অবৈধ একটি পিস্তল ও একটি অবৈধ এয়ারগান উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্র আইনে এবং কয়েক বোতল মদ পাওয়ায় মাদক আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। একইভাবে জাহিদের কাছ থেকে একটি অবৈধ পিস্তল উদ্ধারের অভিযোগে অস্ত্র আইনে এবং ৪০৬টি ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগে মাদক আইনে মামলা করা হয়েছে।

অস্ত্র মাদক পাওয়ায় ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা : র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, বাসায় অস্ত্র ও মাদক পাওয়ার কারণেই ইরফান সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতেই তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। তদন্তে র‌্যাব যা পেয়েছে সে অনুযায়ী মামলা করেছে। আর পুলিশ তদন্তে যা পেয়েছে তারা সে অনুযায়ী প্রতিবেদন দিয়েছে। বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন, এখন এ নিয়ে মন্তব্য করা যাবে না। গতকাল রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‌্যাব সদর দফতরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যাব সেবা সপ্তাহ ও রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে র‌্যাব ডিজি বলেন, রক্তদান কর্মসূচিতে সারা দেশে ৫০০ র‌্যাব সদস্য রক্তদান করেছেন। এ ছাড়াও দুস্থদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ, গরিব ও মেধাবীদের জন্য বৃত্তি দেওয়া হয়।

র‌্যাব সদস্যদের এই রক্ত দিয়ে গরিব অসহায় ও র‌্যাব সদস্যদের চিকিৎসা করা হবে। তা ছাড়া করোনা থেকে সুস্থ র‌্যাব সদস্যদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা রক্ত প্লাজমা হিসেবে কাজে লাগানো হবে। করোনা মহামারীর সময়ে সারা দেশে মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা দিয়েছে র‌্যাব সদস্যরা। এ ছাড়া আভিযানিক কার্যক্রমও চলমান ছিল। সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয় র‌্যাব।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ইরফানের বাসায় আমরা অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানে ওয়াকিটকিসহ যেসব মালামাল পাওয়া যায় সেসবের ভিত্তিতে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছেন। সেগুলো লিপিবদ্ধ করে আমরা থানায় মামলা করি। পরবর্তী সময়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা যে প্রতিবেদন দিয়েছেন সে বিষয়ে আমরা অবহিত না। তিনি তার বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে যা পেয়েছেন তার ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কী আছে সেটা আমরা হাতে পেলে এ বিষয়ে পরে জানাতে পারব।

তিনি বলেন, সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে দেশজুড়ে ৪ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। আগামীতে এই বৃক্ষগুলোর দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণ র‌্যাবের পক্ষ থেকে করা হবে। এ ছাড়াও ৩২ হাজারের বেশি হতদরিদ্রের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। যারা করোনার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদেরও সহায়তা করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here