প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজে বাধাঃ ইউএনও’কে হত্যার হুমকি

0
527

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে হত্যা ও এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিয়েছেন দৈনিক সমকালের বিশেষ প্রতিনিধি জনাব শরিফুল ইসলাম। সাংবাদিক জনাব শরিফুল ইসলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজে বাধা প্রদান করেন। পাশাপাশি   প্রশাসনকে অস্থিতিশীল করাসহ  উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জীবন নাশের হুমকি, ক্যারিয়ার ধ্বংস, ঝাড়ু মিছিল করানো, বিভাগীয় মামলা করানোর হুমকির দেন সাংবাদিক শরিফুল। তিনি সম্প্রতি ঘতে যাওয়া দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপর হামলার মত যাওয়া মত একইভাবে আলফাডাঙ্গার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপর হামলা করার হুমকি দেন।
গতকাল মঙ্গলবার ০৮/১২/২০২০ তারিখে সকাল ১১.৪৫ ঘটিকায়  আলফাডাঙ্গার উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদ এলাহীকে দপ্তরে কর্মরত অবস্থায়  দাপ্তরিক মোবাইল ফোনে (০১৭০১৬৭০০৩৪) ফোন করেন দৈনিক সমকালের বিশেষ প্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম। তিনি আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরকাতলাসুর গ্রামের মশিউর রহমানের ছেলে। শরিফুল ০১৭২৪৮০৮৬৩০ মোবাইল নম্বর  হতে ফোন দিয়ে সরকারী খাস জমিতে (জেলা প্রশাসকের ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত এসএ-রেকর্ড দাগ নং ১৫৭৫ ও বিএস রেকর্ড দাগ নং-৪৯০) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে গৃহীত আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় গৃহহীন ও ভূমিহীনদের  জন্য ঘরের কাজ বন্ধ করার হুমকি দেন। প্রকল্পভুক্ত জমি এসএ ও বিএস দুইটি রেকর্ডেই খাস জানালে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রাণে মেরে ফেলার পাশাপাশি উত্তেজিত হয়ে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখান।

শরিফুল ইসলাম মোবাইল ফোনের বক্তব্যে বলেন যে, “মি: ইউএনও, দিস ইজ নট ইয়োর লাস্ট স্টেশন। এটা আপনার লাস্ট স্টেশন না। মিঃ ইউএনও, আপনি বড় অফিসার হয়ে গেছেন। অনেক বড় বড় অফিসার দেখেছি। আব্দুল মালেকদের মত আরোও কত বড় অফিসার দেখেছি। আপনি আমার কথা রেকর্ড করেন, পত্রিকায় রিপোর্ট নয়, পত্রিকায় রিপোর্ট করে কিছু হয় না, যেখানে বলার দরকার সেখানে বলব। এটা (সরকারী খাস জমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের গৃহ নির্মাণ) যদি আপনি করেন, এই এলাকার মানুষকে, প্রত্যেকটা ঘর থেকে যে  আপনি টাকা খাবেন, এইটা আপনার ব্যাড ইন্টেনশন, আপনার নামে ডিপি চালু করাবো। মাইন্ড ইট, আমি শরীফ বেচে থাকলে আপনার নামে ডিপি চালু করবো, করবো, করবো। সবাইকে দিয়ে জিডি করাবো। আপনার কতটুকু ক্যারিয়ার আমি দেখে নেব। আপনি কত বড় অফিসার, আপনার ক্যারিয়ার দেখে নেব। রিপোর্ট কেবল শুরু হয়েছে, রিপোর্ট আরো শুরু হবে। দিনাজপুরের ইউএনও এর যে অবস্থা হয়েছিল, আপনি যদি এগুলো করেন,  আপনার সেই অবস্থা হবে সম্প্রতি ঘোড়াঘাট, দিনাজপুরের ইউএনও এর  উপর হামলার কথা ইঙ্গিত করে শারিরীক ভাবে গোপনে হামলা করে খুন  করার হুমকি দিয়ে।–আপনি স্টার হতে চান? — আপনি  নিজের জন্য, নিজের টাকা চুরি করার জন্য, টাকা খাওয়ার জন্য আপনি জমিজমা থেকে, ঘরপ্রতি কত টাকা কমিশন খাবেন, সব রেকর্ড হবে। সব দেখা হবে। আপনি আলফাডাঙ্গায় কয়দিন থাকবেন সেটাও আমি দেখছি। আলফাডাঙ্গায় আপনার চাকরির লাস্ট স্টেশন নয়। অনেকদূর যেতে হবে মি:ইউএনও। এখন সিনিয়র এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি, এরপর ডেপুটি সেক্রেটারি, জয়েন্ট সেক্রেটারি, আমি শরীফ যদি বেচে থাকি, আপনি যে স্টেশনে যাবেন, সেই স্টেশনেই দেখা হবে। –কালকে ঝাড়ু মিছিল হবে আপনার বিরুদ্ধে। শান্ত আলফাডাঙ্গাকে আপনি উত্তাল করতে চাচ্ছেন”(ফোনালাপের মূল বক্তব্য লিখিত আকারে সংযুক্ত)।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদ এলাহী জেলা প্রশাসককে জানান, দৈনিক সমকালের সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম কুচিয়াগ্রামের সাড়ে চুয়ান্ন শতাংশ সরকারী খাস জমিতে অবৈধভাবে বাসভবন নির্মাণ করে বসবাস করছেন যা এসএ রেকর্ড দাগ নং-১৫৬৭, বিএস রেকর্ড দাগ নং-৪৯০, উভয় রেকর্ডেই জেলা প্রশাসকের ১নং খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। এর বাইরে তিনি ও তার পিতা মশিউর রহমান এ এলাকার বিপুল খাস জমি (এসএ ও বিএস উভয় রেকর্ড ১নং খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত) অবৈধভাবে ভোগ দখল করছেন। ইতোঃপূর্বে, সরকারী নিষ্কন্টক খাস কৃষি জমিতে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ করতে গেলে সাংবাদিক শরিফুল ও তার পিতা মশিউর রহমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং এ দুই অফিসের কর্মচারীদের হামলা-মামলা ও কাজ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেন। সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম দৈনিক সমকালের সচিবালয় বিটে কাজ করার সুবাদে সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্থানীয় প্রশাসনের উপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন।

সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার-এর বিরুদ্ধে জীবন নাশের হুমকি, ক্যারিয়ার ধ্বংস, ঝাড়ু মিছিল করানো, বিভাগীয় মামলা করানো হবে বলে হুমকি দেয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজে বাধা প্রদান ও প্রশাসনকে অস্থিতিশীল করার হুমকির বিষয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট আইনগত প্রতিকার চেয়ে পত্র দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। উল্লেখ্য যে, প্রশাসন ক্যাডার এ যোগদানের আগে তৌহিদ এলাহী দৈনিক কালের কন্ঠ, সমকাল ও ডিজিটাল সময় পত্রিকায় দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেছেন।

এঘটনার প্রেক্ষিতে আজ বুধবার ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন। এসময় এসময় উপস্থিত ছিলেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদুল হাসান (জাহিদ), আলফাডাঙ্গা পৌর মেয়র সাইফুর রহমান (সাইফার), আলফাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এ কে এম  আহাদুল হাসান, গোপালপুর ইউনিয়ন ইউনিয়ন পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান নূরী বেগম, বানা ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান রাজ ইসলাম খোকন, টগরবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান ইমাম হাসান শিপন, পাঁচুড়িয়া ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুর রহমান, ও সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম এর পিতা মশিউর রহমানসহ এলাকার প্রায় ২০০জন ব্যাক্তি উপস্থিত ছিলেন।

সবার উপস্থিতিতে সরেজমিনে নির্বাচিত জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। যাচাই বাছাই শেষে দেখা যায় যে,  নির্বাচিত জমি জেলা প্রশাসকের ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত এসএ-রেকর্ড দাগ নং ১৫৭৫ ও বিএস রেকর্ড দাগ নং-৪৯০। উপস্থিত সকলেই নির্বাচিত জমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প এর ঘর নির্মাণে আইনগত কোন বাধা নেই মর্মে জানান। পাশাপাশি নির্বচিত জমিটি পতিত উচূ হওয়ায় এ মুহুর্তেই ঘর নির্মাণের উপযোগী। এ ঘরের উপকারভোগীগণ উপস্থিত সবাইকে জানান যে, এ মুহুর্তে ঘর তৈরি হলে সেখানে তারা বাস করতে ইচ্ছুক। সকল ইউনিয়নের মত এ জায়গাতেও আশ্রয়নের প্রকল্পের ঘর তৈরি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি, সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম, দৈনিক সমকাল এর বাসভবনের কুচিয়াগ্রামের বাড়ীর জমির কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাড়ে চুয়ান্ন শতাংশ সরকারী খাস জমিতে অবৈধভাবে বাসভবন নির্মাণ করে বসবাস করছেন যা এসএ রেকর্ড দাগ নং-১৫৬৭, বিএস রেকর্ড দাগ নং-৪৯০। তার বাসভবনের অবৈধভাবে দখলকৃত জমিটি উভয় রেকর্ডেই জেলা প্রশাসকের ১নং খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত বলে প্রতীয়মান হয়। এর বাইরে তিনি ও তার পিতা মশিউর রহমান এ এলাকার বিপুল খাস জমি (এসএ ও বিএস উভয় রেকর্ড ১নং খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত) অবৈধভাবে ভোগ দখল করছেন বলে এলাকাবাসী জানান। সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম এর পিতা  মশিউর রহমান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত নিজের দাবী করলেও দাবীর সপক্ষে কোন কাগজপত্রাদি উত্থাপন করতে পারেনি। পাশাপাশি তাদের বাসভবনের জমিটির সপক্ষেও কোন কাগজপত্রাদি উত্থাপন করতে পারেনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সাংবাদিক শরিফুল ইসলামের কথোপকথনের মূল অংশঃ

ইউএনও: আসসালামুআলাইকুম
শরিফুল: জ্বী, স্লামালাইকুম
ইউএনও: আসসালামুআলাইকুম
শরিফুল: আমার নাম শরিফুল ইসলাম, আমি ঢাকা থেকে বলছি।
ইউএনও: জ্বী- বলেন কি বিষয়ে? বলেন প্লিজ।
শরিফুল: এর আগে আমি আপনার সাথে কথা বলেছিলাম, আমাদের গ্রামে বোধ হয় আপনি গুচ্ছগ্রাম নাকি কি একটা করতে যাচ্ছেন?
ইউএনও: গুচ্ছগ্রাম নয়, এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প এর কাজ।
শরিফুল: যেটার পিডি মাহবুব সাহেব সেটা?
ইউএনও: হ্যাঁ
শরিফুল: এর আগেও আমি আপনার সাথে কথা বলেছি, এখন ধরেন পাবলিকদের জন্য করবেন, একটা জিনিস সরকার পাবলিকদের জন্য করবে। ঐ এলাকার পাবলিক জিনিসটা চাচ্ছে না। কারন ঘরহীন মানুষ ওদের নেই। সেটা পাবলিক যদি না চায়, সেটা করাটা যুক্তিগত ব্যাপার সেটা আমি জানতে চাচ্ছি?
ইউএনও: ঠিক আছে যদিও বলা জরুরি না, আপনি যেহেতু জানতে চাচ্ছেন, তাই বলছি। আমার বক্তব্য হচ্ছে যে, যেখানে সরকারী নিস্কন্টক জমি এসএ ও বিএস রেকর্ডে এ খাস জমি আছে, সেখানে কাজ করতে হবে।
শরিফুল: না, এটা খাস জমি না, এটা ব্যাক্তি মালিকানা জমি। এটা মনে হয় এস এ –আমি আপনাকে একটি কথা বলি প্রশাসনের সাথে আমি অনেক ঘনিষ্ট হয়ে কাজ করি তাদের কাছে কিছু দাবী দাওয়া থাকে। আপনাদের রিসেন্ট, অনেক ভালো ভালো মেধাবী অফিসার আসছে, প্রশাসন ক্যাডার ভালো হচ্ছে। তবে, কেন জানি আপনারা পাবলিকদের কথা শুনতে চাচ্ছেন না।
ইউএনও: এটা তো পাবলিকদের কথা না, এটা আপনার কথা। আপনার সব কথা শোনার দরকার নাই। সরকারী খাস যদি জমি থাকে তাহলে আমাকে সিন্ধান্ত নিতে হবে কোথায় আশ্রয়ণের কাজ হবে।
শরিফুল: আমি পাবলিকদের কাথা বলতে চাচ্ছি।
ইউএনও: যেটায় কাজ করছি সেটা সরকারী জায়গা। এটা ব্যাক্তি মালিকানা জমি না।
শরিফুল: ঐ এলাকা আমার এলাকা, আপনি আমার সমকালে কাজ করেছেন, ছোট ভাইদের কাছে আপনার কথা শুনেছি। তবে এ ধরনের আচারন আপনার কাছে আশা করি নাই।
ইউএনও: আমিও তো আপনার কাছে এধরনের আচরন আশা করি নি। আমি এ্কটা সরকারী কাজ করছি, তাতে আপনি একমাত্র বাধা দিচ্ছেন।
শরিফুল: সরকার যাদের জন্য কাজ করছেন কিন্তু তারাই যদি না চায় তাহলে কেন করছেন।
ইউএনও: সবাই চাচ্ছে। সরকারের,  এলাকার সবাই চাচ্ছে শুধু আপনি চান না।
শরিফুল: ঠিক আছে, আপনার ক্ষমতা আছে, আপনি ইউএনও, আপনি বড় অফিসার আপনার ইচ্ছা হইছে, ঐ এলাকায় আপনি ঘর করবেন। এ এলাকায় যত রাস্তা ঘাট, স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা আমার নিজের উদ্যোগে হয়েছে।
ইউএনও: এলাকায় সমস্ত জমির তথ্য সংগৃহীত হয়েছে।
শরিফুল: আমি জানি না আপনি কোন ব্যাচের অফিসার। আমি ৭৯ ব্যাচে অফিসার থেকে শুরু করে আলী কবির সাহেবের আমল থেকে শুরু করে শেখ বদিউজ্মান সাহেবের আমল থেকে শুরু করে, সব অফিসার দেখতে দেখতে এ পর্যন্ত এসেছি।
ইউএনও: আমি সরকারের নির্দেশে সরকারের জমিতে দরিদ্র মানুষদের জন্য কাজ করব, এতে আপনার সমস্যা কি বুঝতেছি না। একমাত্র এই প্রকল্পের কাজে আপনার বিরোধিতা আছে। এটাতে নিজের জমি না সরকারের জমি, সরকারের জমিতে সরকার কাজ করবে।
শরিফুল: এতোদিন সরকার দাবী করে নাই এটা সরকারী জমি।
ইউএনও: সেখনে এস এ রেকর্ড ও বিএস রেকর্ড সরকারের নামে আছে।সেখানেই আমি করব। আমি আইন কানুন ভালোবুঝি। আমার কোন জায়গায় কাজ করতে হবে, সে বিষয়ে আমার সুস্পষ্ঠ ধারনা আছে।
শরিফুল: মি: ইউএনও, দিস ইজ নট ইয়োর লাস্ট স্টেশন।
ইউএনও:  আপনি আমাকে থ্রেট দিচ্ছেন, আমাকে থ্রেট দেবেন না।
শরিফুল: এটা আপনার লাস্ট স্টেশন না। এটা আপনার লাস্ট স্টেশন না। বিচার দেয়ার দরকার নেই। আপনি মোবাইল কোর্ট করবেন, বিচার করবেন, মি ইউ এন ও, আপনি বড় অফিসার হয়ে গেছেন। অনেক বড় অফিসার দেখেছি। আঃ মালেকদের মত আরোও কত বড় অফিসার দেখেছি। আপনি আমার কথা রেকর্ড করেন।
ইউএনও: মি: শরীফুল সাহেব, আপনি পত্রিকায় রিপোর্ট করাবেন, সেটা করাইয়েন।
শরিফুল: পত্রিকায় রিপোর্ট নয়, পত্রিকায় রিপোর্ট করে কিছু হয় না, যেখানে বলার দরকার সেখানে বলব। এটা যদি আপনি করেন, এই এলাকার মানুষকে, প্রত্যেকটা ঘর থেকে আপনি টাকা খাবেন, এইটা আপনার ব্যাড ইন্টেনশন, আপনার নামে ডিপি চালু করাবো।মাইন্ডিইট, আমি শরীফ বেচে থাকলে আপনার নামে ডিপি চালু করবো, করবো, করবো। সবাইকে দিয়ে জিডি করাবো। আপনার কতটুকু ক্যারিয়ার আমি দেখে নেব। আপনি কত বড় অফিসার, আপনার ক্যারিয়ার দেখে নেব।
ইউএনও: আপনি বিভিন্ন জায়গায় রিপোর্ট করাবেন এবং করছেন।
শরিফুল: রিপোর্ট কেবল শুরু হয়েছে, রিপোর্ট আরো শুরু হবে। দিনাজপুরের ইউএনও এর যে অবস্থা হয়েছিল, আপনি যদি এগুলো করেন, আপনার সেই অবস্থা হবে। (সম্প্রতি ঘোড়াঘাট, দিনাজপুরের ইউএনও এর উপর হামলার কথা ইঙ্গিত করে শারিরীক ভাবে গোপনে হামলা করে খুন করার হুমকি দিয়ে।)
ইউএনও: আমিও সেইরকমি চাই, আপনি করেন।
শরিফুল: আপনি স্টার হতে চান, না?আপনি স্টার হতে চান? আপনি স্টার হতে চান ?
ইউএনও: হ্যাঁ, আমি সরকারের জন্য স্টার হতে চাই।
শরিফুল: আপনি নিজের জন্য, নিজের টাকা চুরি করার জন্য, টাকা খাওয়ার জন্য আপনি জমিজমা থেকে, ঘরপ্রতি কত টাকা কমিশন খাবেন, সব রেকর্ড হবে। সব দেখা হবে। আপনি আলফাডাঙ্গায় কয়দিন থাকবেন সেটাও আমি দেখছি।
ইউএনও: আচ্ছা দেখান
শরিফুল: আলফাডাঙ্গায় আপনার চাকরির লাস্ট স্টেশন নয়। অনেদুর যেতে হবে মি: ইউএনও। এখন সিনিয়র এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি, এরপর ডেপুটি সেক্রেটারি, জয়েন্ট সেক্রেটারি, আমি শরীফ যদি বেচে থাকি, আপনি যে স্টেশনে যাবেন সেই স্টেশনেই দেখা হবে। কত বড় অফিসার, জনগনকে ভয় দেখান, মোবাইল কোর্ট করবেন।
ইউএনও: আইনভঙ্গ করলে করব, দরকার হলে আইনপ্রয়োগ করব।
শরিফুল: কালকে ঝাড়ু মিছিল হবে আপনার বিরুদ্ধে। আপনার বিরুদ্ধে কালকে ঝাড়ু মিছিল হবে। আপনার বিরুদ্ধে কালকে ঝাড়ু মিছিল হবে।
ইউএনও: আমি চাই।
শরিফুল: শান্ত আলফাডাঙ্গায় আপনি উত্তাল করছেন।
ইউএনও: আপনি জমি জমা দখল করে রাম রাজত্ব করছেন, সেখানে হাত পাতাতেই আপনার সমস্যা হয়েছে। আপনি নিজে উত্তাল করতে চাইছেন।
শরিফুল: আপনি কথা সাবধানে বলবেন মি: ইউএনও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here