কুষ্টিয়ার হরিপুরবাসীর নয়নের মনি এম. মাহামুদ হোসেন সাচ্চু’র মৃত্যু বার্ষিকী আজ

0
8

আকরামুজ্জামান আরিফ কুষ্টিয়া: আজ এম. মাহমুদ হোসেন সাচ্চুর মৃত্য বার্ষিকী । এম মাহমুদ হোসেন সাচ্চু ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে ২৮শে নভেম্বর হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের শালদাহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মহুরম এম. মোশারফ হোসেন মাষ্টার। তার বয়স যখন ৩মাস তখন তার স্নেহময়ী গর্ভধারিণী মাতা হালিমা খাতুন মারা যান। খালামা (পরে বিমাতা) জাহানারা জাহানের কোলে সাচ্চু লালিত পালিত হতে থাকেন। ভাই বোনদের সবার কনিষ্ঠ হওয়ায় তার যত্নের কোন কমতি ছিলো না। হরিপুর শালদাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু হয় তার লেখাপড়া। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষে ১৯৭৭ সালে খ্রিস্টাব্দে ভর্তি হোন দি ওল্ড কুষ্টিয়া হাইস্কুলে। ১৯৮৫সালে এস.এস.সি পাশ করেন। এরপর ভর্তি হন কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজে। সেখানেই তার সাথে পরিচয় হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের নেতা বর্তমানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সাথে। তার আর্দশে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন সাচ্চু। অসীম সাহস, প্রতিভা আর অমায়িক ব্যবহারের গুণে অতি অল্প সময়ের মধ্যে সাচ্চু ছাত্রলীগ, জাসদের কুষ্টিয়া শাখার শীর্ষে পদে অধিষ্ঠিত হন। তার কারণে হরিপুরের ব্যবসায়ীরা মুক্তভাবে ব্যবসা করার সুযোগ পায়। তিনি ১৯৮৬-১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে হেরে যান। তিনি ধৈর্য্য হারা না হয়ে সমাজ সেবায় এগিয়ে যান। জনগণের সুখ দুঃখ নিজের সুখ দুঃখ ভেবে প্রতিনিয়ত তাদের পাশে থাকতে দেখা গিয়েছে। হরিপুরের সকল শ্রেণী পেশার মানুষদের সাথে যেভাবে ভালবাসায় সিক্ত করেছেন যা এখনো হরিপুরের প্রতিটি মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। প্রতিটি বাড়ির খোজ খবর রাখার পাশাপাশি সমাজ সেবামূলক শত শত উদাহরণ করে গেছেন। জনগণকে এতটাই ভালবেসে পাশে রাখতেন যে, তাদের বাড়িতে খাওয়া দাওয়া করতে দ্বিধাবোধ করেনি। হরিপুরের রাস্তা, স্কুল, মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ড করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তিনি প্রতিনিয়ত হরিপুরের সাধারণ মানুষদের নিয়ে ভাবতেন। কিভাবে পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীর আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়ন করা যায়। পরবর্তীতে তিনি আবার ১৯৯১-১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। তিনি দলমত নির্বিশেষে সকলের হয়ে কাজ করতে থাকেন। এর ফলে তিনি পুনরায় ১৯৯৭-১৯৯৮ তে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। কুষ্টিয়ার ইতিহাসে এম মাহমুদ হোসেন সাচ্চু ছিলেন সবচেয়ে কম বয়সী চেয়ারম্যান। তার মেধার কারণে তিনি কুষ্টিয়া জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ চেয়ারম্যান সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। এম মাহমুদ হোসেন সাচ্চুর একান্ত প্রচেষ্টায় হরিপুরে একটা খেলার মাঠ প্রতিষ্ঠিত হয় যা দি ওল্ড কুষ্টিয়া হাই স্কুলের মাঠ হিসেবে পরিচিত। সে মাঠটিই এখন হরিপুর ইউনিয়নের একমাত্র বিনোদনের স্হান হয়ে আছে। ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে জেলার ভেড়ামারা উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রহমাতুল্লাহর মেয়ে সম্পা (বর্তমান চেয়ারম্যান ১নং হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন) সাথে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।এম মাহমুদ হোসেন সাচ্চুর সাথে এলাকার মানুষের সুসম্পর্ক ছিলো। তিনি সবাইকে অত্যন্ত আপন ভাবতেন। কুষ্টিয়াসহ অনেক এলাকার মানুষের সাথে তার অত্যন্ত গভীর সম্পর্ক ছিলো। এখনও অনেকেই দূর দূরান্ত থেকে তাকে স্মরণ করেন মনে প্রাণে। ১১জুলাই বড় ভাই মাহমুফ হোসেন মুকুলের বাসা থেকে ১৫ থেকে ২০জন সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ঘরের ভিতর থেকে ঢুকে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তাকে হাসপাতালে নিলে ডাক্তাররা দ্রুত ঢাকায় নিতে বললে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ইনসেনটিভ কেয়ারে রেখে চিকিৎসা করা হয়। মসজিদে মসজিদে সাচ্চুর জন্য দোয়া করা হয়, মানুষ শোকে কাতর হয়ে যায়। ১৪জুলাই তিনি ইন্তেকাল করেন। হরিপুর তথা কুষ্টিয়া জেলায় নেমে আসে শোকের ছায়া। সেই দিনের সেই শোকাহত দিনের কথা মনে পড়লে এখনো হরিপুর তথা কুষ্টিয়ার মানুষের বুকে হাহাকার হয়ে উঠে একটাই নামের প্রতিধ্বনি উচ্চারিত হয়।হাজার হাজার মানুষ এক নজর তাকে দেখার জন্য ভীড় করেন। হরিপুর ফুটবল মাঠে তার নামাজের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এই জানাযায় হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে তাকে শালদাহ গোরস্থানে সমাধিস্থ করা হয়। আজ সাচ্চু নেই! আছে তার হাজারো স্মৃতি। সাচ্চু হরিপুরের উন্নয়ন রেখে গেছেন এক অনন্য অবদান। হরিপুরের মাটি, আকাশ, বাতাসে এখনো সেই সাচ্চুর স্মৃতি ভেসে বেড়ায়। অলি গলিতে সবখানেই তার সেসব স্মৃতি গুলো এখনো মানুষ ভুলতে পারে না। হরিপুরের হাজার হাজার মানুষ তাকে বাচিয়ে রেখেছে এবং তার প্রতি রয়েছে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here