উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

4

গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। বসতবাড়িতে পানি ওঠায় বিপাকে পড়েছেন বানভাসী মানুষ। সরকারি ত্রাণ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রচণ্ড স্রোত। হু হু করে করে যমুনা নদীর পানি ঢুকছে লোকালয়ে। তলিয়ে গেছে সড়ক। নিরাপদ আশ্রয়ে পরিবার-পরিজন ও গবাদিপশু নিয়ে ছুটছে মানুষ।

কেউ আশ্রয় নিয়েছেন বেড়িবাধেঁর ওপর। কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বানভাসি মানুষ।

জামালপুরে যমুনা নদীর পানি বেড়ে দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে। বেড়িবাঁধ উপচে পানি ঢুকে পড়েছে বসত বাড়িতে। দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার চিত্র একইরকম।

এ অবস্থায় সরকারি ত্রাণ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর পানি বাড়তে থাকায় পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৯ উপজেলার এক লাখেরও বেশি মানুষ। বসত বাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় নৌকায় সরিয়ে নিচ্ছেন আসবাবপত্র।

গাইবান্ধার চার উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যাকবলিত এখানকার মানুষ উচু স্থানে আশ্রয় নিলেও দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও পয়নিষ্কাশনের সমস্যা।

তবে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে নীলফামারী ও লালমনিরহাটে। তবে এখনো পানিতে তলিয়ে রয়েছে বসতবাড়ি।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের শাহজালাল উপশহরের কয়েকটি ব্লকের সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া, গোয়াইনঘাট, কোম্পানিগঞ্জ, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর ও জকিগঞ্জসহ ১৩ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

তবে সুরমা নদীর পানি কমায় সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। পৌর এলাকার অনেক জায়গা থেকে নেমে গেছে পানি।