‘তালাকনামা’

7
শকুনের মতো পৃথিবী ছিড়ে খেয়েছিস তুই
সবুজ ডানা মেলতে পারিনি ছুঁড়িকাঘাতের গ্রাসে
রৌদ্রের উচ্ছাস হারিয়ে ফেলেছি অন্ধকারের গর্জনে_
তোর দিগন্ত-প্লাবিত অত্যাচার কেড়ে নিয়েছে সব,
মুখ থুবরে পড়ে ছিল অসংখ্য মৃত রাত

তোর ঠোঁটে লিখে দিলাম ‘এক তালাক’।

জীবনের পেয়ালায় আঁধো হয়ে শুয়ে ছিল পৌষের নিরব আঁধার
পাতাঝরা ভোরে থোকা হয়ে ফুঁটে ছিল বিষাক্ত প্রেম; তাতে ধুতুরার স্বাদ।
হেমন্তের হিম ঘাসের শিয়রে ছিল যে শকুন
তার চোখ দেখেছি, জ্বলেছিলো সাঁজদীপের অগ্নিশিখা;
আমার লাশের বুকে পা রেখে বাঁকাপথের ঘাটে, আত্নার চিৎকারে মৃত্যু দিলো ডাক

তোর চোখে লিখে দিলাম ‘দুই তালাক’।

মরণশিয়রে মাথা পেতে বসে ছিলাম, মরিচা লেগেছিলো প্রাণে
মৃত চোখে বসে ছিল মরা ভ্রমর বিলুপ্ত হয়েছি জগতের ‘পরে_
শুকনো কাঠ আসবাবের মতো সাজিয়ে রাখা ছিল হৃদয়ে,
কোনোদিন দেখিনি নিরবতার মুখ; বুকের নগরে আগুন জ্বলতেই নুয়ে পড়েছিলো একটিবার !
ভেঙ্গেচুড়ে গেলো ধূসর প্রাসাদ-ফাল্গুণী চাঁদ; হারিয়ে গেলো রক্তিম নগ্ন নির্জন রোদের হাত।
হাওয়ার বুক থেকে ছিঁটকে এলো ঝড়ের মতো আঘাত

তোর কপালে লিখে দিলাম ‘তিন তালাক’।

রচনায়ঃ তাসমিরা ইসলাম আর্নি