ড. মুসা’র ৬০ বিলিয়ন ডলার ও তার অমর কীর্তি : নিকোলাস মূর ও জুরিখ থেকে নাইয়ার জামিল

লন্ডন থেকে নিকোলাস মূর ও জুরিখ থেকে নাইয়ার জামিল লন্ডন

এটা একটা অভূতপূর্ব ও অতুলনীয় ঘটনা। এই পুরো বিষয়টি উদঘাটনে আমাদের সাত সাতটি বছর পরিশ্রম করতে হয়েছে। আমরা বিশ্বের সবচেয়ে সেলিব্রেটেড বিজনেস টাইকুন এবং দুর্ধর্ষ অস্ত্র ব্যবসায়ি ড. মুসা বিন শমশেরের কথা বলছি- জন্মসূত্রে যিনি বাংলাদেশি।

কাজটা আমাদের জন্য মোটেই সহজসাধ্য ছিলনা। আমরা পাকিস্তান আমল থেকে তার ও এদেশের ইতিহাস অনুসন্ধানে ব্রতী হই। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠা এবং পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে তা বিভক্ত ছিল। ১৯৫৮ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পুরো দেশ শাসন করেছেন পশ্চিম পাকিস্তানের জেনারেলরা। আমাদের গবেষণায় আমরা দেখেছি যে, কি পরিমাণ নিষ্ঠুরতা ও অমানবিকতা ও বৈষম্য তারা পূর্ব পাকিস্তানের সাথে পশ্চিমারা করেছে। পশ্চিম পাকিস্তান দ্রত উন্নতির শিখরে আরোহন করছিল। পক্ষান্তরে পূর্ব পাকিস্তানে দরিদ্রের সংখ্যা যেমন হু হু করে বাড়ছিল তেমনি পূর্ব পাকিস্তান বিশ্ববাসির কাছে হত দরিদ্রের তকমা পেয়েছিল।

ভারতের সহযোগিতায় এদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে ৯ মাস ধরে চলে এবং ভারতের তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তার সশস্ত্র বাহিনীকে পূর্ব পাকিস্তান দখলের নির্দেশ দিয়ে তা বাংলাদেশিদের হাতে প্রত্যর্পনের নির্দেশ দেন। এক সপ্তাহের মধ্যে মিসেস গান্ধীর নির্দেশ প্রতিপালিত হয় এবং দেশ স্বাধীন হয় এবং বিশ্বের মানচিত্রে নতুন এক দেশ বাংলাদেশ বলে স্থান পায়। এরপর মহান নেতা শেখ মুজিবর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে ভূষিত করা হয়।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত, ভয়ংকর দুর্দশাগ্রস্ত, দুর্ভিক্ষ পীড়িত সম্প্রদায় ও জাতি। বাংলার আকাশে ছিল এক মহা দুর্যোগের ঘনঘটা। ঠিক হঠাৎই ঐশ্বরিক ভাবে এক অর্থনৈতিক রেনেসাঁর মাধ্যমে সূচনা হয় বাঙ্গালী জাতির ভাগ্যে এক নব দিগন্ত। যখন সেই রেনেসাঁর একমাত্র উৎস ও মুক্তির সোপান জনশক্তি রপ্তানির আতুরঘর থেকে গগণচুম্বী উন্নয়নের ইতিহাস লেখা হবে তখন বাংলার প্রতিটি ঘর হবে উৎসবে মাতোয়ারা। আর সমগ্র বাংলার আকাশ আতশবাজিসম লক্ষ লক্ষ উজ্জ্বল নক্ষত্রের আলোক রশ্মিতে উদ্ভাসিত হবে। তখন সবার উপরে এবং সর্ব উচ্চে শির উচুঁ করে একটি নামই গর্বের সাথে বিরাজ করবে জীবন্ত কিংবদন্তি প্রিন্স ড. মূসা বিন শমশের।

ড. মূসা বিন শমশের এক অবিসংবাদিত কিংবদন্তি, বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি ও অর্থনৈতিক মুক্তির জনক। ড. মূসা বিন শমশের বাংলার সেই সূর্যসন্তান যিনি উজ্জ্বল এক নক্ষত্র হয়ে দেখা দিয়েছিলেন এই জাতির ভাগ্যাকাশে, চিরতরে বদলে দিয়েছিলেন বাঙ্গালী জাতির ভবিষ্যৎ। আর তাইতো এই মহান স্বপ্নদ্রষ্টার কাছে জাতি আজ চিরঋণী। সমগ্র বাঙ্গালী জাতি আর একটি অবিশ্বাস্য ও অভূতপূর্ব অবদানের জন্য প্রিন্স মূসার কাছে চিরদিন কৃতজ্ঞতার বন্ধনে আবদ্ধ থাকবে।

১৯৫৪ সাল থেকেই তরুণ মূসা শেখ মুজিবের খুবই ঘণিষ্ঠ ছিলেন। স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশের মানুষ অবর্ননীয় দু:খ কষ্টের মধ্যে কালাতিপাত করছিল। ড. মূসা এই প্রেক্ষাপটে ব্যবসা শুরু করেন এবং কাতারের রাজ পরিবারের সাথে যৌথভাবে একটি ফ্যাক্টরির প্রতিষ্ঠা করেন। এভাবেই সত্তুর দশকের শুরুতে এশিয়ার এই তরুণ উদ্যোক্তা মূসা বিন শমশেরের বৈদেশিক বাণিজ্যের সূত্রপাত এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বড় বড় কোম্পানিগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় সাফল্যের মুখ দেখেন।
তখন থেকেই বিশ্ব বাণিজ্যের মোড়লরা তার প্রতি মনোযোগী হন একই সাথে দারিদ্র, দূর্দশাগ্রস্থ, নিপীড়িত বাংলাদেশে তাদের দৃষ্টি পড়ে। ড. মূসা শুরু থেকেই তার ব্যবসায় অভূতপূর্ব সাফল্যের মাধ্যমে কোটি কোটি পাউন্ড, ডলার লাভ করতে থাকেন। তার প্রতিটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানই ব্যাপক লাভ করতে শুরু করে। এটা অত্যন্ত গর্বের কথা যে আমাদের অন্তত একজন কমরেড তার ব্যাপক সম্পদ ও ক্ষমতার মাধ্যমে বিশ্বের একজন নিয়ন্ত্রকের পর্যায়ে নিজেকে উন্নীত করতে সমর্থ হয়েছেন।

একথা অনস্বীকার্য একমাত্র ধনকূবেরদের পক্ষেই বিশ্বে প্রভূত ক্ষমতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হয় যা ড. মূসা অত্যল্প সময়ের মধ্যেই তার অধিগত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার যথার্থ মানবিক গুনাবলী এবং সত্যনিষ্ঠ ব্যবসায়ী হিসেবে পদচারণা তাকে বিশ্বব্যাপি এক পৃথক ও সম্মানিত আসনে অধিষ্ঠিত করে যা সমসায়য়িক কালে দুর্লভ। এশিয়ার মধ্যে তিনিই একমাত্র অস্ত্র ব্যবসায়ী যিনি একই সাথে সেলিব্রিটি হিসেবে নিজেকে পরিগণিত করতে সক্ষম হন।

১৯৭৪ সালে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অস্ত্র ব্যবসায়ি আদনান খাসোগির ব্যবসায়ীক পার্টনার হন। খাসোগি মূলত সেীদি আরবের হয়ে অস্ত্র ব্যবসা করতেন।একই সাথে ড. মূসা মার্কিন অস্ত্র ব্যবসায়ি সারকিস সোগেনিলিয়নের সাথেও ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৪৫ সালের ১৫ অক্টোবর ফরিদপুরের এক সম্ভান্ত পরিবারে ড. মূসার জন্ম। ওই সময়ে তিনি ছিলেন একমাত্র সুবেশি ও সুশোভিত ছাত্র নেতা। ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট ইউনিভার্সিটেতে তিনি অধ্যায়ন করেন এবং সেখান থেকেই অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি নিজের স্বার্থে জীবনে সবকিছু করেছেন তা নয়। নেতা ও জাতির জনকের নির্দেশে তিনি মানুষ ও দেশের কল্যাণে অনেক প্রকল্প গ্রহণ করেন এবং অনেক অসাধ্য সাধন করেন।

উপসাগরীয় দেশের রাজ পরিবার ও শাষক- বাদশাহদের সাথে সখ্যতার কারণে তিনি জনসম্পদ রপ্তানী শুরু করেন। একারণে তাকে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানীর অগ্রদূত বলা হয়। তাইতো দারিদ্র নিপীড়িত বাংলাদেশ আজ নতুন এক বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে। আজ বাংলাদেশ রেমিটেন্স পাচ্ছে তার শুরুটা হয়েছিল তার হাত ধরে। আজ বাংলাদেশ এ কারণেই একটি স্বচ্ছল দেশের তকমা পেয়েছে। আমরাও নিশ্চিত করে বলতে পারি,বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান সাফল্য নিয়ে যদি ইতিহাস লেখা হয় তাহলে একটি মাত্র নামই সবার উপরে থাকবে আর সে নামটি ড. মূসা বিন শমশেরের। সকল প্রকার বিতর্কের উর্ধে থেকে কোটি কোটি বাংলাদেশির ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে তিনি মানব সম্পদ রপ্তানীর ক্ষেত্রে জনশক্তি রপ্তানীর জনকের ভূমিকায় উন্নীত হয়েছেন। তার প্রতি জাতি যে কৃজ্ঞতা বলাই বাহূল্য।

তিনি বহু অভাবী দেশকে সাহায্য করেছেন এবং উন্নয়নশীল বহু দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে তিনি সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন। বহু দেশের উন্নয়নে তিনি কোটি কোটি ডলার তার পকেট থেকে ব্যয় করেছেন। তার সবচেয়ে বিস্ময়কর যে কাজ তা হল ইসরাইলের ধ্বংস থেকে পবিত্র কাবা ও মদিনা শরীফ এবং জেদ্দাকে রক্ষা। ইসরাইল বরাবরই উল্লেখিত স্থাপনা ধ্বংসে বদ্ধপরিকর ছিল। ১৯৮৪ সালে হজের সময় তারা উল্লেখিত স্থাপনা ধংসে অতি শক্তিশালী ক্ষেপনাস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় যা ঠেকানোর কোন ব্যবস্থাই ছিলনা। যদি তারা সফল হতো তাহলে ইসলাম বিশ্ব থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতো। ড. মূসা এককভাবে সেই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে সমর্থ হন। সেই থেকেই তিনি ব্যাপকভাবে প্রিন্স মূসা অভিধায় পরিচিতি লাভ করেন। তার অসাধারণ কর্মের জন্যই তার নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

কেউ জানেনা তার মোট সম্পদের পরিমান। একবার আমরা আদনান খাসোগির কাছে ড. মূসার সম্পদের বিবরণ জানতে চেয়েছিলাম। জানতে চেয়েছিলাম তার কত অর্থ সুইস ব্যাংক জব্দ করে রেখেছে। আমরা সেই সৌভাগ্যবান দুইজন সাংবাদিক যে, লন্ডনের হাসপাতালে আদনান খাসোগির সাক্ষাৎকার নিতে সফল হয়েছিলাম। যদিও এটা সহজসাধ্য ছিলোনা তবুও আমরা বেশ কয়েক বছর ধরে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে অনকটাই নিশ্চিত ছিলাম তার অর্থের পরিমান। যদি আমরা মিডিয়া বা পত্র পত্রিকার রির্পোটকে সামান্যতমও আমলে নেই তাহলে প্রিন্স মূসার সম্পদ অঢেল যেটা হয়তো তিনি নিজেও জানেন না। তাই আমরা পুনর্বার তার কাছে মুসা বিন শমশেরের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন করি। তিনি কিছুক্ষণ নিরব থাকলেন। এরপর তিনি সত্য কথাটা বলতে শুরু করলেন। তিনি বললেন, শোন আমার সন্তানেরা-মুসা আন্তর্জাতিক মহলের গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার। তাদের প্ররোচনায় বিশাল একটি সুইস ব্যাংক মূসার ৬০ বিলিয়ন ডলার অন্যায় ভাবে জব্দ করে এবং আমার কাছে মূসার ২০ বিলিয়ন ইউরো গচ্ছিত রয়েছে। হাসপাতালের বেডে অন্তিম শয্যায় তিনি বলেন, মৃত্যর আগেই আমি এই টাকাটা মূসাকে দিয়ে যেতে চাই। আমরা জানিনা আদনান খাসোগি ড. মূসাকে উল্লেখিত অর্থ দিতে পেরেছিলেন কিনা। ২০১৭ সালের ৬ জুন খাসোগি মৃত্যুবরণ করেন। আমরা নানা সূত্রে অনুসন্ধান পূর্বক নিশ্চিত হয়েছি যে, সুইস ব্যাংকে মূসা ৬০ বিলিয়ন ডলার জমা করেছিলেন যা সুইস ব্যাংক জব্দ করে রেখেছে। তার সকল অর্থই বৈধভাবে অর্জিত। বাংলাদেশ থেকে তিনি কোন অর্থ পাচার করেননি। এই অর্থের পুরোটাই নির্ভেজাল এবং কোন অপরাধজনিত কিংবা অবৈধ কাজের মাধ্যমে অর্জিত নয়।

ভাষান্তর কায়কোবাদ মিলন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here