আমি অসভ্য হতে চাই, বেহায়া হতে চাই

138

কামরুন দোস্ত তোকে মনে পড়লেই জীবনের অংক এলোমেলো হয়ে যায়। আমার মনে পড়ে তসলিমা নাসরিনের কথা, বলেছিলেন “এতটা ভাব নিও না। তুমিও ঐরকম হয়ে যাবে।” হয়তো হয়ে যেতাম । এটা কি তবে সভ্যতার যাতাকল ?

আমি সত্যই বুঝি না, , সন্তান জন্ম দেবে মেয়ে , লালন করবে ও মেয়ে, বড়দের সেবা করবে মেয়ে কিন্তু আয় যে করবে খবরদারী তার চলবে । কিন্তু যখন আয় করবে মেয়ে , স্বামীর চাকরি দেবে মেয়ে, বড়দের সেবা করবে মেয়ে , সন্তানদের দায়িত্ব নেবে মেয়ে তখন কিসে বাধা দেয় খবরদারী করার অধিকার পেতে। নাকি সত্যিই বিধাতা পুরুষ ?

আসলে হাজার বছরের এ আলোচনা সমাধান নয়, সমাধান নারীবাদি মাইল ফলকে। নারী যদি অসভ্য হতে পারতো, যদি অপরাধ করে বেহায়ার মতো বড় গলায় বলতে পারতো, তবেই সমান সমান হতে পারতো। আর তাইতো নারীবাদি মাইলফলকেরা সমাজ বিচ্যুত। তারা অসভ্য হতে পারেনি । বলতে পারেনি” সখি আমিতো ঝাকড়া চুল ছেলেটা কে খেয়ে দিয়েছি। এবার তোর খালাতো ভাইয়ের সাথে একটু পরিচয় করিয়ে দে”।

দোস্ত তুমিতো সেই ছোট্টবেলা থেকেই সাহসী , স্পষ্টভাষী। জীবনে তোমার সফলতা দেখে কোন পুত্রদায়গ্রস্থ পিতা তার সুদর্শন অযোগ্য সন্তানের দায়ভার তোমাকে বইতে দিয়েছিল । সেখানেও তুমি সফলতা দেখালে । সফলতা দেখালে সন্তান জন্ম , লালন এবং পুত্রদায়গ্রস্থ পিতা ও তার সংগিনীর সেবায় । তবে কেন তোমাকে অসুখি হতে হয় সংসার জীবনে । কেন তোমাকেই মেনে নিতে হয় তাদের খবরদারী । কোন ক্ষমতায় তোমার অর্জন করা টাকা তুলে দিতে বাধ্য করে তাদের হাতে।

শুধুমাত্র এই কারনে, সে বলতে পেরেছে – পাশের বাড়ির করিমের বউ টা ডাসা পেয়ারার মত টসটসে । আর তুই আকড়ে থাকতে চেয়েছিলি এই সমাজের বেড়াজাল । তুই ও তোর পছন্দের কাউকে নিয়ে দিবাস্বপ্ন দেখতে পারতি । দেখিসনি, বলতেও পারিসনি , কারন তুই অসভ্য হতে পারিসনি , তুই তো বেহায়া নয়।