কুষ্টিয়ায় সংখ্যালঘু পরিবারের উপর ছাত্রলীগ নেতার অতর্কিত হামলা

491

আকরামুজ্জামান আরিফ কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় এক সংখ্যালঘু পরিবারের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ নেতা ও তার সমর্থিতরা। এ সময় তারা ঐ পরিবারের তিন সদস্য ও বাড়িতে আসা এক অতিথীকে মারধর ও ভাংচুর করে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় শহরের মিলপাড়া দেবী প্রসাদ ক্লাবের সাথে এ ঘটনা ঘটে। হামলার নেতৃত্বে থাকা পৌর ১১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় কাউন্সিলর আনিছ কোরাইশীর ছেলে শহর ছাত্রলীগের আহবায়ক হাসিব কোরাইশী। ঘটনাস্থল লাগোয়া পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও সংখ্যালঘু পরিবারের উপর এমন হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি সামাজিকভাবে মিমাংসা করার জন্য এবং থানায় অভিযোগ না দেয়ার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে চাপ দিচ্ছেন ছাত্রলীগ নেতার বাবা আনিছ কোরাইশী। এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার মডেল থানায় অভিযোগ দেয়ার কথা জানালেও তা অস্বীকার করছে পুলিশ। বর্তমানে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
স্থানীয় মৃত কার্ত্তিক চৌধুরীর বিধবা স্ত্রী মুক্তি রানী জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে আমার বাসায় অতিথি আসে। তাকে আমি নাস্তা দিতেই হঠাৎ দেখি মুখা বাঁধা ১০/১২জন বাঁশ ও স্টাম্প নিয়ে আমার বাসার সামনে বকাবকি করছে। আমি বাইরে গিয়ে বললাম তোমরা কারা আর এভাবে বকাবকি করছ কেন ? আমরা ফ্যামিলি বসবাস করি। বলার সাথে সাথে তারা আমার ঘরের ভিতরে ঘুকে এলপাথারি ভাংচুর শুরু করে। আমার বাসাই আসা গেস্ট দেবোত্তম বিশ্বাসকে বেধরক প্রহার করে। আমি নিষেধ করাই আমাকে ও কিল ঘুসি মারে। এক পর্যায়ে আমার যুবতী মেয়ে আশা রানীকে লাঞ্ছিত করে। আমাদের চিল্লাচিল্লিতে আশপাশের মানুষ ছুটে এলে তারা ক্ষান্ত হয়। হামলাকারীদের সবাই ছিল মুখে রুমাল বাঁধা ও মাস্ক পরা। আশপাশের মানুষ আসার পর দেখতে পারি হামলাকারী  শহর ছাত্রলীগের আহবায়ক হাসিব কোরাইশী। তার নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে। তিনি আরো বলেন,আমার একমাত্র সন্তান আকাশকে নিয়ে আমি ভয়ে আছি। আবার কখন হামলার শিকার হতে হয়। ঘটনার সময় আমার ছেলে ঘরে ছিল না। থাকলে হয়তো ওকে শেষ করে দিত।  রাতেই আমাদের মাননীয় সাংসদকে ব্যাপারটি জানিয়েছি। তিনি থানায় অভিযোগ করতে বললে আমরা তার নির্দেশনা অনুযায়ী কুষ্টিয়া মডেল থানাতে অভিযোগ করে এসেছি গতকাল রাত থেকেই কমিশনার আনিস কোরাইশি ব্যাপারটি ধামাচাপা দিতে নানান ভাবে আমাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছে।

মৃত কার্তিকের ছেলে আকাশ চৌধুরী জানায়,হাসিব কোরাইশী ছাত্রলীগের পদ পেয়ে বেপরোয়া হয়ে গেছে। আমিও সাবেক ছাত্রলীগের একজন কর্মী। আমি বাড়িতে ছিলাম না এই সময় এরা এসে আমার বাড়িতে হামলা চালায়। এখন থানা থেকে অভিযোগ তুলে
নেয়ার জন্য আমার মাকে বারবার ফোন দিয়ে চাপ সৃষ্টি করছে। শুনলাম ২ জন ধরা পরেছিল। কিন্তু আসল যারা আমার মা’কে মারলো তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকল। এই ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি তুষারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ঘটনা সঠিক হলে হাসিব কোরাইশিকে ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কার করা হবে। শহর ছাত্রলীগ আহবায়োক হাসিব কোরাইশির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা বলেন, ওই পরিবারের কেউ আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি তারা থানায় অভিযোগ দিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,তারা রাতে থানায় এসেছিল। বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছি। বরং আমি তাদেরকে অভিযোগ দিতে বলেছিলাম। তারা বিষয়টি সামাজিকভাবে মিমাংসা করবেন বলে জানিয়েছে।