মহামারীতেও মুনাফার বলি হচ্ছে শ্রমিক

7

যীশুঃ  রানা প্লাজা শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের সপ্তম বার্ষিকীতে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেছেন, রানা প্লাজা এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড, এক অর্থে গণহত্যা। রানা প্লাজার কয়েক হাজার শ্রমিক মুনাফার শিকার হয়ে জীবন হারিয়েছে, পঙ্গু হয়ে বেঁচে আছে। একদিকে সাত বছরেও এঘটনার বিচার হয়নি, অন্য দিকে আজো সেই অবস্থা বদলায়নি বিন্দুমাত্র। তাই এই করোনা মহামারীতেও মুনাফার জন্য বলি হচ্ছে গার্মেন্ট শ্রমিকরা। তিনি বলেন, এই দুঃসময়ে শ্রমিকদের প্রতি মালিক ও সরকারের আচরণ ইতিহাসে বড় অন্যায়-জুলুম হিসেবে চিহ্নিত হবে। নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে  ২৪ এপ্রিল ২০২০, শুক্রবার, সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে তিনি একথা বলেন। এসময় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন পুষ্পমাল্য অর্পণ করে।

পুষ্পমাল্য অর্পণ পরবর্তি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শ্রমিকনেতা জলি তালুকদার বলেন, যদিও সংক্রমণ এড়াতে ঘরে থাকতে হবে, তবুও আজকের এই দিনে কোথাও প্রকাশ্য দাড়িয়ে দুটি কথা বলা খুবই জরুরি। শুধুমাত্র শ্রদ্ধা জানানো কিংবা বিচার, ক্ষতিপূরণ ও নিরাপদ কর্মস্থলের দাবির জন্য নয়। এই মহামারীতে আজ রানা প্লাজা দিবস আরো ভীষণ রকম প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, এই প্রাসঙ্গিকতা শুধু গার্মেন্ট শ্রমিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ব্যক্তি মালিকানা খাতের সকল চাকুরীজীবী, স্বনিয়োজিত মেহনতি মানুষ, কৃষক, গ্রামের মজুর সবার জন্যই প্রযোজ্য। তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রের কাছে আমাদের কারো জীবনেরই কানাকড়ি মূল্য নেই। যা এই মহামারীতে অন্য যে কোন সময়ের চাইতে আরো স্পষ্ট অনুভব করা যাচ্ছে। রানা প্লাজা দিবস প্রতিবাদী হয়ে সেই কথাগুলো বলার সবচেয়ে উপযুক্ত দিন।

জলি তালুকদার আরো বলেন, যে কারণে রানা প্লাজায় হাজার শ্রমিক প্রাণ হারায় একই কারনে আজ লক্ষ শ্রমিক মৃত্যু ঝুকিতে পরেছে। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার করে পরবর্তী শ্রমিক হত্যা থামাতে হবে। তিনি বলেন, চিকিৎসার অভাবে অসংখ্য পঙ্গু শ্রমিক দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে। তিনি দ্রুত বিচার ও পঙ্গু শ্রমিক ও নিহত শ্রমিকের পরিবারকে সারা জীবনের আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান। একইসাথে তিনি এই মহামারীতে শ্রমিকের বকেয়া মজুরি পরিশোধ, ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পূর্ণবহাল, লে-অফ প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে আজ রানা প্লাজা স্মৃতিসৌধে সকাল ৮টায় শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলো গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। পুলিশি বাধায় সে কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হয়নি। সকালে গার্মেন্ট টিইউসির সাধারণ সম্পাদকসহ তিন জন কেন্দ্রীয় নেতা সাভারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে পথে আমীনবাজার ট্রাক টার্মিনাল পরবর্তি স্থানে পুলিশ নেতৃবৃন্দকে থামান এবং দীর্ঘ্যক্ষণ অপেক্ষমাণ রেখে তাদের গাড়িটিকে ঢাকার দিকে ফিরিয়ে দেন। এদিকে একইসময় রানা প্লাজা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দকেও কর্মসূচি স্থলে যেতে বাধা দেয়া হয়। পরবর্তিতে প্রতিবাদের মুখে নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল হলে বেলা একটায় সিপিবি, গার্মেন্ট টিইউসি, রানা প্লাজা শ্রমিক ইউনিয়ন, উদীচী রানা প্লাজা স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে।