কিশোরগঞ্জে রোগীর স্বজনকে কক্ষে আটকে মারধর, চিকিৎসককে অব্যাহতি

প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে রোগীর স্বজনকে কক্ষে আটকে মারধর, চিকিৎসককে অব্যাহতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এক রোগীর স্বজনকে কক্ষে আটকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত চিকিৎসককে হাসপাতালের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) রাতে জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুল করিম গণমাধ্যমকে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন।

অব্যাহতি পাওয়া চিকিৎসকের নাম ইসরাত জাহান মৌ। তিনি ওই হাসপাতালের চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন জানান, ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনের করা লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক তদন্ত শেষে ওই চিকিৎসককে দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টার দিকে পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. উবায়দুল্লাহ তাঁর অসুস্থ স্ত্রী ও আট মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসেন। তবে দীর্ঘক্ষণ চিকিৎসকের দেখা না পাওয়ায় উবায়দুল্লাহ মোবাইলে হাসপাতালের ভেতরের ভিডিও ধারণ করেন এবং চিকিৎসকের দেরিতে আসা নিয়ে অন্য রোগীদের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। বেলা ১১টার দিকে ডা. ইসরাত জাহান মৌ হাসপাতালে নিজের কক্ষে আসেন।

উবায়দুল্লাহর অভিযোগ, কক্ষে প্রবেশের পরপরই দরজা বন্ধ করে দিয়ে ডা. মৌ-এর নির্দেশে হাসপাতালের কয়েকজন স্টাফ তাঁকে বেদম মারধর করেন। এ সময় কক্ষের বাইরে থাকা তাঁর স্ত্রী ও শিশুর চিৎকারে অন্য রোগীরা এগিয়ে এলে কক্ষের দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং তিনি উদ্ধার পান।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসক ইসরাত জাহান মৌ জানান, অভিযোগকারী উবায়দুল্লাহ হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভিডিও ধারণ করছিলেন। তিনি সিরিয়াল অমান্য করে জোরপূর্বক কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা চালান। এতে কক্ষে থাকা অন্য রোগীদের সঙ্গে তাঁর বাগবিতণ্ডা হয়। উবায়দুল্লাহই প্রথম তাঁর সহযোগী ও তাঁকে ধাক্কা মারেন বলে দাবি করেন এই চিকিৎসক। এই ঘটনায় তিনি সদর মডেল থানায় একটি পাল্টা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া জানান, ঘটনার পর ভুক্তভোগী উবায়দুল্লাহ থানায় এলে তাঁকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদিকে চিকিৎসক মৌ-এর পক্ষ থেকেও একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

মন্তব্য করুন