সীমান্তে বিজিবির গুলিতে ভারতীয় চোরাকারবারি আহত

প্রকাশ: রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
সীমান্তে বিজিবির গুলিতে ভারতীয় চোরাকারবারি আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক:মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে নিয়োজিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলার চেষ্টাকালে আত্মরক্ষার্থে বিজিবির ছোড়া গুলিতে এক ভারতীয় চোরাকারবারি আহত হয়েছেন। শনিবার রাত সাড়ে ১২টায় বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের (৫২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে আহত ওই ভারতীয় নাগরিকের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

আজ রবিবার (১৪ জুন) সকালে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘সীমান্ত নিরাপত্তা, বিজিবি টহল উইং ও জুডিশিয়াল ক্রাইম খতিয়ান’ এবং ‘চোরাচালান প্রতিরোধ, বর্ডার ইন্টেলিজেন্স ও জেলা আইন-শৃঙ্খলা উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে সীমান্ত সংঘর্ষের নেপথ্য কারণ ও বিজিবির বিবৃতির পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

বিজিবির দায়িত্বশীল সূত্রের খতিয়ান অনুযায়ী, গত শনিবার রাত ১০টার দিকে বিয়ানীবাজার (৫২ বিজিবি) ব্যাটালিয়নের অধীনে থাকা মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্ত এলাকায় বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিল। সীমান্ত রেখা সংলগ্ন বাংলাদেশ অংশে গভীর রাতে সন্দেহভাজন দুই জন ব্যক্তিকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে বিজিবির জোয়ানরা তাদের থামার নির্দেশ দেন এবং চ্যালেঞ্জ করেন। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে এবং নিজেদের অপরাধ ঢাকতে ওই দুই ভারতীয় চোরাকারবারি হঠাৎ বিজিবি সদস্যদের ওপর দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চড়াও হওয়ার এবং অতর্কিত আক্রমণের চেষ্টা চালায়।

টহল কমান্ডার তাৎক্ষণিক কন্ডিশন বিবেচনা করে বিজিবি সদস্যদের জানমাল রক্ষা ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার স্বার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ার নির্দেশ দেন। আদেশ পেয়ে বিজিবি জোয়ানরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে বিজিবির ছররা গুলিতে এক ভারতীয় চোরাকারবারি গুরুতর আহত হয়। গুলির শব্দে এবং পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আহত সঙ্গীকে সাথে নিয়ে অপর চোরাকারবারি রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত কাঁটাতার পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

সীমান্তবর্তী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার পরপরই বড়লেখা সীমান্ত এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী বিওপিগুলোতে বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। চোরাচালান ও সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরণের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। এই ঘটনার পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর সাথে কোনো ধরণের পতাকা বৈঠক বা যোগাযোগ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন